empty
 
 
16.01.2026 08:31 AM
১৬ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

বৃহস্পতিবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে, যদিও এর পেছনে খুব কমই যৌক্তিক কারণ ছিল। যুক্তরাজ্যে, সকাল বেলা শিল্প উৎপাদন ও নভেম্বরের জিডিপি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, অপেক্ষাকৃত দুর্বল পূর্বাভাসের বিপরীতে, মাসিক ভিত্তিতে 0.3% প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে, এবং শিল্প উৎপাদন সূচক 1.1% বেড়েছে (এটিও নেতিবাচক পূর্বাভাসের বিপরীতমুখী ফলাফল প্রদর্শন করেছে)। ফলে, ভোর থেকেই পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা এই পেয়ারের মূল্যের কোনো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখতে পাইনি; এর পরিবর্তে, আমরা একটি স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন মার্কিন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফলে প্রভাবে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখতে পেয়েছি, যা উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। এই কারণে, আমরা এখনও মনে করি যে ইউরো পেয়ারের মুভমেন্টগুলো সম্পূর্ণরূপে টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে হচ্ছে, এবং পাউন্ডের মূল্যের মুভমেন্ট শুধুমাত্র ইউরোর উপর নির্ভর করছে। মার্কেটে অস্থিরতার মাত্রা কম রয়েছে, যা দুদিকেই ট্রেড করার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষার অভাবকে নিশ্চিত করে। একটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক (সামষ্টিক অর্থনৈতিক এবং মৌলিক দৃষ্টিকোণ থেকে) নিম্নমুখী প্রবণতার জন্য একটি ট্রেন্ডলাইনও গঠিত হয়েছে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

বৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে 1.3437–1.3446 এরিয়া থেকে রিবাউন্ডের ফলে একটি কার্যকর সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। ফলে, ইউরোপীয় সেশনের সময় নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারে। দিনের শেষে, এই পেয়ারের 40–50 পিপস দরপতন ঘটেছে, যা থেকে সহজেই মুনাফা অর্জন করা যেতে পারে।

শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের একটি নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হতে শুরু করেছে, যা শুধুমাত্র একটি বিষয় দ্বারা সমর্থিত: সেটি হচ্ছে ইউরোরও দরপতন হচ্ছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, তাই আমরা কেবলমাত্র এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টেরই প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিকভাবে, আমরা 2025 সালে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

শুক্রবার, নতুন ট্রেডাররা এই পেয়ারের মূল্যের 1.3319–1.3331-এর এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশনে ওপেন করতে পারে, তবে বর্তমানে অস্থিরতার মাত্রা কম থাকায় মূল্য ওই এরিয়ায় নাও পৌঁছাতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে মূল্যের 1.3437–1.3446-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 এরিয়ার নিচে থাকা অবস্থায় ট্রেডিং সেশন শেষ হলে — নতুন শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3259–1.3267-এর এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করুন: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3203–1.3212, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3437–1.3446, 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590, 1.3643–1.3652, 1.3682, 1.3763। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরিকল্পনা নেই, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডিসেম্বরের শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই প্রতিবেদনের ফলাফল মার্কেটে সম্ভবত শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে না।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.