empty
 
 
05.02.2026 12:27 PM
মার্কিন শ্রমবাজার থেকে মিশ্র সংকেত পরিলক্ষিত হচ্ছে

গতকাল মার্কিন ডলারের ওপর অল্প সময়ের জন্য চাপ সৃষ্টি হয়। কারণ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে জানুয়ারিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোতে প্রত্যাশার তুলনায় কম কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে—এটি বছরের শুরুতে শ্রমবাজার পরিস্থিতি দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

This image is no longer relevant

বুধবার ADP রিসার্চ জানিয়েছে যে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সংখ্যা 22,000 বেড়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের কাছাকাছিও পৌঁছায়নি।


কর্মসংস্থান খাটের এই দুর্বল পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে যখন মাত্রই গত বছরের শেষ শ্রমবাজার পরিস্থিতির পুনরুদ্ধারের চিহ্ন দেখা যেতে শুরু হয়েছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই অপ্রত্যাশিত মন্থরতা এই ইঙ্গিত দেয় যে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক নির্ধারিত উচ্চ সুদের হার মার্কিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বড় আঘাত হানছে।


গত কয়েক মাসে স্থিতিশীলতার কিছু লক্ষণ দেখা গেলেও, বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধির মন্থরতা জানুয়ারিতে শ্রমবাজার পরিস্থিতি দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনাই নির্দেশ করে। ডাও ইনকর্পোরেটেড ও আমাজন ইনকর্পোরেটেড সহ কয়েকটি বড় কোম্পানি সম্প্রতি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে, তবু সাম্প্রতিক প্রাথমিক বেকারভাতা আবেদন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ব্যাপক মাত্রায় কর্মী ছাটাইয়ের ইঙ্গিত মিলছে না।


শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থানের হার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সবমিলিয়ে প্রথমদিকে নিয়োগ কার্যক্রমে অর্থপূর্নভাবে পুনরুদ্ধার থাকলেও কর্মসংস্থানের বৃদ্ধির গতি ধীর হয়েছে। প্রতিবেদন আরও উল্লেখ আছে যে পেশাদার ও ব্যবসায়িক সেবাখাতে জুনের পর থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। বড় কোম্পানিগুলো কর্মীসংখ্যা কমিয়েছে, আর ৫০ জনের কম কর্মী থাকা ব্যবসাগুলো মোটামুটি বেশিরভাগ কর্মী ধরে রেখেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী চাকরি পরিবর্তনকারী কর্মীদের মধ্যে গড়ে 6.4% জনের বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় 1.0 শতাংশ পয়েন্ট কম। যেসকল কর্মী একই চাকরিতে ছিল তাদের বেতনের অগ্রগতিও মাত্রাতিরিক্ত ছিল।


উপরিউক্ত কারণগুলোর জন্য এই প্রতিবেদনটির ফলাফল কারেন্সি মার্কেটে তাৎক্ষণিকভাবে সীমিত মাত্রায় প্রভাব বিস্তার করেছে।

This image is no longer relevant

EUR/USD‑এর টেকনিক্যাল পূর্বাভাস অনুযায়ী, ক্রেতাদের পুনরায় এই পেয়ারের মূল্যকে 1.183 লেভেলে নিয়ে আসার কথা ভাবা উচিত। এর ফলে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1870 লেভেল টেস্ট করার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। সেখান থেকে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1910‑এ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও বড় ট্রেডারদের সহায়তা ব্যতীত এই পেয়ারের মূল্যের এই লেভেলের ওপরে অগ্রসর হওয়া কঠিন হবে। বিস্তৃত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1950 লেভেল নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে, সম্ভবত মূল্য 1.1780‑এর আশেপাশে থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে দেখা যাবে। সেখানে ক্রেতারা সক্রিয় না হলে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1730‑এ নতুন নিম্ন লেভেলে নেমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা বা 1.1700 থেকে লং পজিশন ওপেন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

GBP/USD‑এর ক্ষেত্রে, পাউন্ড স্টার্লিংয়ের ক্রেতাদের এই পেয়ারের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স 1.3625 লেভেলে নিয়ে যাওয়া উচিত। কেবলমাত্র তখনই তারা এই পেয়ারের মূল্যকে 1.3655-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যেতে পারবে; এই লেভেলে ব্রেকআউট করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। বিস্তৃত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3690 লেভেল নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি এই পেয়ারের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য 1.3595‑এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে ওই রেঞ্জ ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর গুরুতর আঘাত হানবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3565 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখান থেকে পরবর্তীতে প্রায় 1.3540‑এর লক্ষ্যমাত্রা পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.