empty
 
 
17.02.2026 08:09 AM
১৭ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

সোমবার GBP/USD পেয়ারেরও স্বল্পমাত্রার অস্থিরতার সাথে ট্রেড করা হয়েছে, মৌলিক বা সামষ্টিক প্রেক্ষাপট থেকে এই পেয়ার কোনো সহায়তা পায়নি এবং ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যেই ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, গত সপ্তাহের সোমবার থেকে, যখন মার্কেট জুড়ে ডলারের ব্যাপক দরপতন হয়েছিল এবং এই পেয়ারের মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ড লাইন অতিক্রম করে উর্ধ্বমুখী হয়েছিল, তারপর থেকে আমরা কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখিনি। ক্রমশ গত পাঁচদিন ধরে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার সঙ্গে ধীরগতিতে হ্রাস পাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলও উপেক্ষিত হচ্ছে। তাই বলা যেতে পারে যে মার্কেটে নিজস্ব নিয়মে ট্রেড করা হচ্ছে—যদি এটিকে ট্রেড বলা যায়। আজ যুক্তরাজ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে লক্ষ্যনীয় যে গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উভয় জায়গায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তারপরও যেকোনো চার্ট দেখলেই সহজেই মূল্যায়ন করা যায় যে এই পেয়ারের মূল্যের কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট সৃষ্টি হয়নি।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার থেকে একটি বাউন্স গঠন করেছে এবং শেষে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়, যা নতুন ট্রেডারদের শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিয়েছে। বর্তমানে মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার বিষয়টি বিবেচনা করলে একটিমাত্র ট্রেডিং সিগন্যাল থেকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে পারে।

মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি দেখা যাচ্ছে না, ফলে আমরা আশা করছি যে ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্তত 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে অনুকূল ছিল না, এবং কয়েক সপ্তাহ জুড়ে সক্রিয় মুভমেন্টের পর মার্কেট আবারও নিষ্ক্রিয়তার দিকে ফিরে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার, নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন হোল্ড করে রাখতে পারেন, কারণ এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে, এক্ষেত্রে মূল্যের 1.3529-1.3543-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3741-1.3751-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, 1.3975।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে বেকারত্ব, বেকারভাতার আবেদন ও মজুরি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের প্রতি মার্কেটে সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রেও তেমন কোনো আকর্ষণীয় প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না; শুধুমাত্র সাপ্তাহিক ADP শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.