আরও দেখুন
শুক্রবার GBP/USD পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে তা নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তির জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। আমরা ধারণা করছি মার্কেটের ট্রেডাররা ব্রিটিশ প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফল এবং মার্কিন প্রতিবেদনের হতাশাজনক ফলাফলের প্রতি খুব দুর্বলভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। উল্লেখ্য যে শুক্রবার ব্রিটেনে প্রকাশিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও খুচরা বিক্রয় সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল যথেষ্ট ইতিবাচক ছিল, তবে মার্কিন জিডিপি প্রতিবেদনের ফলাফল পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল ছিল। এছাড়া সন্ধ্যায় ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করে এবং বাতিলকৃত সমস্ত বাণিজ্য শুল্ক দ্রুত পুনর্বহাল করেন। তাই, যদি কোনো ট্রেডার বাণিজ্য যুদ্ধ সমাপ্তি প্রত্যাশায় ডলার কিনে থাকেন, তা বৃথা গিয়েছে। আমাদের দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী মার্কিন মুদ্রার প্রেক্ষাপট দিনে দিনে আরো খারাপ হচ্ছে। গতকাল জানা গিয়েছে যে বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোতে মার্কিন ডলারের রিজার্ভের স্তর সর্বশেষ 20 বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। প্রথম সিগন্যালটি ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের সময় তৈরি হয় যখন এই পেয়ারের মূল্য 1.3437-1.3446 এরিয়া থেকে দুইবার বাউন্স করে। এর পরে এই পেয়ারের মূল্য দ্রুত 1.3484-1.3489 এরিয়ায় পৌঁছায়। ওই এরিয়া থেকে সংঘটিত পরপর দুটো বাউন্স একটি অপরটির অনুরূপ হলেও তা ভুল সিগন্যাল বলে প্রমাণিত হয়। এর পর একই এরিয়ার আশেপাশে বেশ কয়েকটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়, এবং গতকাল রাতে এই পেয়ারের মূল্য 1.3529 লেভেলে পৌঁছায়। সুতরাং সবগুলো লং পজিশন লাভজনক ছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি দেখা যাচ্ছে না, ফলে আমরা আশা করছি যে ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্তত 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে অনুকূল ছিল না, এবং এই কারণেই অপ্রত্যাশিতভাবে পাউন্ডের দরপতন হচ্ছে।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়া অতিক্রম করে ঊর্ধ্বমুখী হয় তাহলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3643-1.3652-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3484-1.3489-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, 1.3975। সোমবার যুক্তরাজ্য বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট নির্ধারিত নেই বা কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না, তবে আমাদের মতে গত সপ্তাহের ঘটনাগুলোই ডলারের আরও দরপতন অব্যাহত রাখার জন্য যথেষ্ট।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।