আরও দেখুন
উচ্চমাত্রার অস্থিরতাসম্পন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট আজ আরেকবার ধসের সম্মুখীন হয়েছে। বিটকয়েনের মূল্য কয়েক হাজার ডলার কমে $68,000 থেকে $64,200 পর্যন্ত নেমে যায়। ইথেরিয়ামও এই ধস থেকে রক্ষা পায়নি এবং এটির মূল্য $1,845 লেভেলে নেমে যায়। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি নতুন ও অত্যন্ত কঠোর বিবৃতির কারণেই ক্রিপ্টো মার্কেটে এইরূপ তীব্র দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের শুল্ক সংক্রান্ত সাম্প্রতিক রায়ের "বিস্তৃত, বিস্তারিত ও পূর্ণ পর্যালোচনা" সম্পন্ন করার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প তৎক্ষণাৎ বৈশ্বিক পর্যায়ে বৈধ সীমার সর্বোচ্চ স্তর 15% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী যেসব দেশ উল্লিখিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে "শোষণ" করেছে তাদের লক্ষ্যবস্তু করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বার্তাটি স্পষ্ট: বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও আক্রমণাত্মক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। স্টক মার্কেট হোক কিংবা ক্রিপ্টো মার্কেট—সবখানেই বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকেতগুলোর প্রতি সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এ ধরনের বিবৃতি মার্কেটে অনিশ্চয়তা তৈরি করে এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য যুদ্ধ, পাল্টা পদক্ষেপ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি। বিনিয়োগকারীরা এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঝুঁকি হ্রাসের চেষ্টা করে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলো থেকে — যেগুলোর মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সিও রয়েছে — দ্রুত বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়ে থাকে। তার ওপর ট্রাম্প জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে এটি এককালীন পদক্ষেপ হবে না: মার্কিন প্রশাসন আগামি মাসগুলোতে আইনি ভিত্তিতে নতুন শুল্ক প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছে। সুতরাং এই ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
শুল্ক নীতির আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, তাদেরকে পোর্টফোলিও পুনর্মূল্যায়ন করে নিরাপদ বিনিয়োগস্থল খুঁজতে উৎসাহিত করছে। "মেক আমেরিকা গ্রেটঁ এগেইন — গ্রেটার দ্যান এভার বিফোর" স্লোগানটি মার্কিন সুরক্ষাবাদী নীতির প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমর্থকরা এটিকে জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখতে পারে; কিন্তু বিশ্ববাজারে এর অর্থ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পতন, ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর — যার মধ্যে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামও রয়েছে — মূল্যের কারেকশনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
বিটকয়েন
বিটকয়েনের টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতারা বর্তমানে এটির মূল্যকে $66,400-এ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা সরাসরি $68,900-এর দিকে পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে দেবে, এরপর $70,600-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্যের প্রায় $71,100-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি মার্কেটে বুলিশ প্রবণতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে, বিটকয়েনের মূল্য $64,400-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মূল্য ওই এরিয়ার নিচে নেমে গেলে বিটকয়েনের মূল্য দ্রুত $62,600-এর দিকে নেমে যেতে পারে। পরবর্তীতে প্রায় $60,100 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।ইথেরিয়াম
ইথেরিয়ামের টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, এটির মূল্য $1,907-এর উপরে স্পষ্টভাবে অবস্থান গ্রহণ করলে $1,998-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $2,078-এর লেভেল নির্ধারণ করা যায়; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে মার্কেটে বুলিশ প্রবণতা শক্তিশালী হবে এবং ক্রেতাদের আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে, মূল্য $1,819-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করা যায়। ইথেরিয়ামের মূল্য ওই এরিয়ার নিচে নেমে গেলে দ্রুত এটির মূল্য $1,724-এর দিকে নেমে যেতে পারে। পরবর্তীতে প্রায় $1,563 পর্যন্ত দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।চার্টে যা যা দেখা যাচ্ছে:
সাধারণত, অ্যাসেটের মূল্য এই মুভিং অ্যাভারেজগুলো অতিক্রম করলে বা পৌঁছালে মার্কেটের বর্তমান মোমেন্টাম থেমে যেতে পারে অথবা নতুন প্রবণতার সূচনা হতে পারে।