আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার GBP/USD পেয়ারের মূল্য স্থানীয় সর্বোচ্চ লেভেলের নিকট উর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট সম্প্রসারণের চেষ্টা করেছিল। তবে সন্ধ্যায় ব্রিটিশ কারেন্সির দরপতন ঘটেছে, যা সম্পূর্ণরূপে টেকনিক্যাল কারণেই ঘটে থাকতে পারে। অন্তত ওই সময়ে মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কিত কোনো নির্ভরযোগ্য খবর প্রকাশিত হয়নি। কেবল ইরানের কয়েকটি অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, তবে সেগুলোর ধরন বা কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবুও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার উদ্বেগে ক্রেতারা সামান্য কিছুটা সক্রিয় থাকতে পারে। মনে রাখবেন, সোমবারেই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হতে পারত। কার্যত ভঙ্গুর অবস্থায় যুদ্ধবিরতি বজায় রয়েছে। আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ শ্রম ও বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যেগুলোর ফলাফল মার্কেটে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তবুও ভূ-রাজনৈতিক পটভূমিকেও অগ্রাহ্য করা ঠিক হবে না—মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়ে গেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর বা আরেকটি কূটনৈতিক উদ্যোগের ব্যর্থতার ঘোষণা আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার ৫-মিনিট টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে, আর মার্কিন সেশনে এই পেয়ারের মূল্য ওই এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে। তাই নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন থেকে লাভ করতে পারেনি, যদিও শর্ট পজিশন শুক্রবার পর্যন্ত হোল্ড করে রাখা যেতে পারে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও গত তিন সপ্তাহ ধরে সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা ধারণা করছি যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা গুরুতরভাবে না বাড়লে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মার্কিন ডলারের দর যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তবে পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে মাঝেমধ্যে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে পারে, যদিও সামগ্রিকভাবে মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব অনেকটা কমে গেছে। দৈনিক ও সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে পরিলক্ষিত প্রবণতা অনুযায়ী ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাই বেশি।
শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন হোল্ড করে রাখতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়ার উপরে কনসলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে , যেখানে মূল্যের 1.3695 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজ যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম পে-রোলস ও বেকারত্ব হার সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এছাড়া ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের দিকেও নজর রাখতে হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।