আরও দেখুন
বুধবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। ইউরোজোনে, মার্চের শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং প্রথম প্রান্তিকের জিডিপির দ্বিতীয় প্রাক্কলন প্রকাশ করা হবে। আমরা এই প্রতিবেদনগুলোকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি না; তাছাড়া, গত তিন মাস ধরে ট্রেডাররা প্রায় সবগুলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনই উপেক্ষা করে আসছে। এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি, শ্রমবাজার এবং বেকারত্ব বিষয়ক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো। বর্তমানে ভূ-রাজনীতিই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে; আর ট্রেডাররা ট্রাম্পের ভিত্তিহীন বক্তব্যের জেরে স্টক সূচকে শত শত পয়েন্টের ওঠানামা ঘটিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে এখন আর প্রস্তুত নয়। তবে, এটা ঠিক এই ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই মার্কেটকে নিয়ন্ত্রণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে আজ উৎপাদক মূল্য সূচক প্রকাশ করা হবে, তবে গতকালই আমরা মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছি। প্রত্যাশামতোই, মুদ্রাস্ফীতির হার দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ও প্রতিনিধিবর্গ (ক্রিস্টিন লাগার্ড, লেন, বুচ), ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের প্রতিনিধি (ম্যান) ও ফেডারেল রিজার্ভের সদস্যদের (কাশকারি, লোগান কলিন্স) বক্তৃতার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। তবে, মুদ্রানীতির বিষয়ে সকল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান সম্পর্কেই ট্রেডাররা বেশ ভালোভাই জানে; তাছাড়া, ট্রেডাররা বর্তমানে মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করে চলছে। আগামী মাসগুলোতে ফেডের মূল সুদের হার কমানো বা বাড়ানোর কোনো প্রত্যাশা নেই; অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং মুদ্রাস্ফীতির হার ক্রমাগত বাড়তে থাকলে, ইসিবি ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড মুদ্রানীতি কঠোর করতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, মুখে এক কথা বলা হলেও প্রকৃত বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। গত সাত দিনে তিনবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হয়েছে এবং সর্বশেষ আলোচনা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে; তবে যদি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হয়, তবে আজ হোক বা কাল—সংঘাত পুনরায় শুরু হবেই।
চলতি সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের তুলনামূলকভাবে মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে। মূলত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরো ও পাউন্ডের ফ্ল্যাট বা প্রায়-ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টে দেখা যাচ্ছে। ইউরো আজ 1.1745-1.1754 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে, এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3587-1.3598 ও 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে; তবে অস্থিরতার মাত্রা আবারও কম থাকতে পারে। আমরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত সংক্রান্ত নতুন খবরের অপেক্ষায় রয়েছি।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।