আরও দেখুন
শুক্রবারও GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল এবং EUR/USD পেয়ারের তুলনায় এই পেয়ারের দ্বিগুণ গতিতে দরপতন ঘটেছে। যুক্তরাজ্যে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট এবং এপ্রিল মাসে ব্রিটিশ মুদ্রাস্ফীতি সূচকের মন্থরতার পূর্বাভাসের কারণে ব্রিটিশ পাউন্ড দরপতনের শিকার হয়েছে। আমাদের দৃষ্টিতে, প্রথমটির চেয়ে পরের কারণটি অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কেটের ট্রেডাররা ধারণা করতে শুরু করেছে যে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড গ্রীষ্মে মুদ্রানীতি নমনীয় করবে—যা প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। তবে এই সপ্তাহে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনে দেশটির মুদ্রাস্ফীতি প্রায় 3% পর্যন্ত নেমে আসার পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে, যা সুদের হার হ্রাসের পদক্ষেপকে অকার্যকর করে তুলতে পারে। ফলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড কর্তৃক ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আর ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে আরও হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের প্রত্যাশা বাড়ছে, এবং ভূ-রাজনৈতিক পটভূমি অব্যাহতভাবে হতাশাজনক রয়েছে। এই সব কারণে সমন্বয়ে ইউরোর তুলনায় পাউন্ডের বেশ তীব্র দরপতন হয়েছে। এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় আছে এবং ট্রেডাররা এখনও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইতিবাচক খবরের অপেক্ষায় রয়েছে।
শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে চারটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, এবং এই পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা সত্ত্বেও প্রতিটি সিগন্যালেই লাভ হয়েছে। প্রথমে এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া ব্রেক করে নিচের দিকে গিয়েছিল, যার ফলে শর্ট পজিশন ওপেন করা সম্ভব হয়। এরপর এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়ার ওপর থেকে দুইবার বাউন্স করায় লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে এই পেয়ারের মূল্য আবার 1.3380-1.3386 এরিয়ার ওপর থেকে বাউন্স করেছে। চারটির মধ্যে তিনটি সিগন্যালের ক্ষেত্রেই এই পেয়ারের মূল্য নিকটস্থ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে ভূ-রাজনৈতিক চাপের কারণে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু করছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি না পেলে মার্কিন ডলারের ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যায় না। তবে পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে মাঝেমধ্যে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে পারে, যা আমরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পর্যবেক্ষণ করেছি।
সোমবার, যেহেতু এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 রেঞ্জের নিচে কনসোলিডেট করেছে, তাই নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3259-1.3267 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, 1.3741-1.3751। আজ যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই ট্রেডারদের উপর প্রভাব বিস্তার করার মতো তেমন কিছু থাকবে না। সপ্তাহান্তে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ভূ-রাজনৈতিক সংবাদ উঠে আসেনি, শুধু ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত শর্তানুযায়ী ইরানকে দ্রুত চুক্তি করার দাবি জানিয়েছেন।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।