আরও দেখুন
২২শে মে, শুক্রবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। জার্মানিতে আজ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের জিডিপির তৃতীয় প্রাক্কলন, ভোক্তা আস্থা সূচক এবং ব্যবসায়িক পরিস্থিতি সূচক প্রকাশ করা হবে। যুক্তরাজ্যে এপ্রিল মাসের খুচরা বিক্রয় প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আর যুক্তরাষ্ট্রে মে মাসের ভোক্তা মনোভাব সূচকের দ্বিতীয় প্রাক্কলন প্রকাশ করা হবে। উপরোক্ত প্রতিবেদনগুলোর গুরুত্ব বেশ কম; তাছাড়া ট্রেডাররা বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটকে অনেকাংশে উপেক্ষা করছে।
শুক্রবারের গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিনিধি (ক্রিস্টোফার ওয়ালার) এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিদের (ফিলিপ লেন) বক্তৃতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ফেড মুদ্রানীতির ব্যাপারে সম্প্রতি কিছুটা কঠোর বা 'হকিশ' অবস্থান গ্রহণ করার সম্ভাবনা বেড়েছে; তবে বর্তমানে আমরা বছরের শেষের দিকে সর্বোচ্চ একবার সুদের হার বৃদ্ধির আশা করছি। অন্যদিকে, ইসিবির মুদ্রানীতির ব্যাপারে প্রত্যাশা বর্তমানে বেশ পরস্পরবিরোধী। একদিকে যেমন মুদ্রাস্ফীতির হার ক্রমশ বাড়ছে, তেমনি অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মন্থরতার লক্ষণও ফুটে উঠছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও জুন মাসে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়াটা একরকম নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল; কিন্তু বর্তমানে ইসিবি কঠোর মুদ্রানীতি বা 'হকিশ' পদক্ষেপ গ্রহণে কতটা প্রস্তুত—তা নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায়, ইসিবির প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেনের বক্তৃতা থেকে জুন মাসের মুদ্রানীতি সম্পর্কে কিছুটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এই সপ্তাহে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠেছে; তবে একথা মনে রাখা জরুরি যে, যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে হতাশাজনক কোনো তথ্য বা সংবাদ সামনে চলে আসতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, এই আলোচনা 'অত্যন্ত সফল' হচ্ছে। অবশ্য এ বিষয়টিও মনে রাখা প্রয়োজন যে, এর আগেও ট্রাম্প আলোচনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি বা 'সাফল্য' অর্জনের দাবি করেছিলেন। কিন্তু সেই দাবি জানানোর ঠিক পরের দিনই ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দেওয়া থেকে তিনি নিজেকে বিরত রাখেননি। কূটনৈতিক আলোচনার সাফল্য প্রসঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নিশ্চিত বার্তা পাওয়া যায়নি। গতকাল এমন খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, আলোচনার মূল 'কাঠামোবদ্ধ চুক্তির' গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে; কিন্তু বর্তমানে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই।
চলতি সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারের বেশ মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে; তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ব্যাপারে যেকোনো সংবাদ মার্কেটে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আজ ইউরো 1.1584-1.1591 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে, অন্যদিকে পাউন্ড স্টার্লিং 1.3380-1.3386 এবং 1.3456-1.3476 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই কারেন্সি মার্কেটে মূল প্রভাব বিস্তার করছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।