আরও দেখুন
গতকালকের দরপতনের পর জ্বালানি তেলের মূল্য আবার বেড়েছে; তবে, বাজার আবার চাঙ্গা হবে কিনা, তা নিয়ে এখনই আলোচনার সময় আসেনি। ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি $104-এর উপরে লেনদেন হচ্ছে, যেখানে ডব্লিউটিআই-এর দর ব্যারেল প্রতি প্রায় $98-এ রয়েছে, এবং শুক্রবারের উত্থান সত্ত্বেও, এই সপ্তাহে উভয় গ্রেডের তেলের মূল্যই 4%-এর বেশি কমেছে। আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে এখনও মার্কেটে স্পষ্টতার অভাব রয়েছে, এবং এই অনিশ্চয়তা ট্রেডারদের আচরণকে প্রভাবিত করছে।
ইরান বিবৃতি দিয়েছে যে আমেরিকার সর্বশেষ প্রস্তাবটিতে মূল মতবিরোধগুলো আংশিকভাবে সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। তবে, প্রায় একই সময়ে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা তেহরানে ইউরেনিয়ামের মজুদ রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের মাশুল নিয়ে একটি পৃথক মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবিলম্বে এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে যাতায়াতকে বাণিজ্যিকীকরণের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেন। এর প্রত্যাশিত ফলাফল হলো: একই সংবাদ চক্রের মধ্যে পরস্পরবিরোধী সংকেতগুলো মার্কেটে যেকোনো দিকেই হোক একটি স্থিতিশীল অবস্থান গঠন করতে বাধা দিচ্ছে।
এটি উল্লেখ্য যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি তেলের ট্রেডিং ভলিউম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সিআইবিসি প্রাইভেট ওয়েলথ গ্রুপ সঠিকভাবে চলমান পরিস্থিতি বর্ণনা করেছে: দরপতনের সময় ক্রেতারা মার্কেটে এন্ট্রি করতে দ্বিধা বোধ করছে, এই আশংকায় যে হরমুজ প্রণালী অবরোধমুক্ত হলে জ্বালানি তেলের দামে ধসে নামতে পারে; অন্যদিকে, ভৌত বাজারের ট্রেডাররা দামী কার্গোর পেছনে ছোটার পরিবর্তে মজুদ কমিয়ে অপেক্ষা করার পথকেই শ্রেয় মনে করছে। খবরের শিরোনামে ক্রমাগত পরিবর্তন এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যেখানে ঝুঁকি উভয় দিকেই সমানভাবে অস্বস্তিকর, যা মার্কেটে ট্রেডিং কার্যকলাপের হ্রাসের দিকে নিয়ে যায়।
তবে, মৌলিক প্রেক্ষাপট থেকে সমর্থনের ঘাটতি বজায় রয়ছে। গোল্ডম্যান শ্যাক্সের মতে, যুদ্ধ এবং তেল সরবরাহে বিঘ্নতার কারণে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুদ রেকর্ড পরিমাণে কমে গেছে। প্রয়োজনে আইইএ অতিরিক্ত মজুদ থেকে বাজারে তেল ছাড়তে প্রস্তুত রয়েছে—সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বৃহস্পতিবার এটি নিশ্চিত করেছেন এবং মনে করিয়ে দিয়েছেন যে কৌশলগত মজুদ থেকে প্রথম চালানটি মার্চ মাসে পাঠানো হয়েছিল। তবে, মার্কিন-ইরান যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহগুলোর মতোই, হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ থাকা অবস্থায় মজুদ থেকে বাজারে তেল ছাড়া হলে তা শুধুমাত্র ঘাটতি কমাতে পারে, কিন্তু এই ঘাটতি পুরোপুরিভাবে দূর করা সম্ভব হবে না।
এখন মূল প্রশ্নটি হলো, আগামী দিনগুলোতে তেলের মূল্য বাড়বে না কমবে তা নয়, বরং আলোচনায় প্রকৃত অগ্রগতি সম্পর্কে ট্রেডাররা কখন একটি স্পষ্ট সংকেত পাবে। যতক্ষণ না সেই সংকেত দেওয়া হচ্ছে, মার্কেটে অস্থির, অস্থিতিশীল এবং দিকনির্দেশনাহীন ট্রেডিং বজায় থাকবে।
বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের অবশ্যই জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $100.40-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে তেলের মূল্যের $106.80-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুযোগ পাওয়া যাবে; তবে মূল্য এই লেভেল অতিক্রম করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। তেলের মূল্যের সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $113.40 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের দরপতন ঘটলে, মূল্য $92.50-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে, এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের ওপর মারাত্মক আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং জ্বালানি তেলের মূল্য $86.60 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে—যার পর $81.40-এ পৌঁছানোরও সম্ভাবনা থাকবে।