empty
 
 
02.06.2026 07:02 AM
EUR/USD পেয়ারের পর্যালোচনা, ২ জুন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো চুক্তি হবে না: ইরানি প্রতিনিধি

This image is no longer relevant

সোমবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের বেশ শান্তভাবে ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে অস্থিরতার মাত্রা কম ছিল এবং সামান্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। তবে, সময় গড়ানোর সাথে সাথে ট্রেডাররা ক্রমশ উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শিগগিরই কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে, মুখে এক কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবতা ও কার্যকলাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদিনই ইরানের সাথে "চমৎকার চুক্তির" নিয়ে গান গাইতে পারেন (যা তিনি সত্যিই করছেন), কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। এখনও দেশ দুটির মধ্যে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ইরান নিজের অবস্থানে অটল রয়েছে এবং হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া প্রতিটি বিবৃতি দেখে তারা সত্যিই হতবাক হয়ে পড়ছে।

সোমবারই, ইরানের প্রধান আলোচক ও সংসদ স্পিকার বাঘের গালিবফ বলেছেন যে, ইরানের সকল অধিকার সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সাথে কোনো চুক্তি হবে না। গালিবফ ঘোষণা দেন, "আমাদের সকোল অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো চুক্তিতে সম্মতি দেব না।" গালিবফ আরও যোগ করেন, "বর্তমানে, শত্রুদেশ (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) অর্থনৈতিক চাপ এবং নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি করতে এবং দেশের সংহতি নষ্ট করতে চেষ্টা করছে, যাতে তাদের সামরিক পরাজয় ঢাকা যায় এবং আমাদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যায়। তারা কিছুই অর্জন করতে পারবে না।"

সুতরাং, যুদ্ধবিরতি, চুক্তি, যুদ্ধের সমাপ্তি এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া সংক্রান্ত বাগাড়ম্বর একটি কড়াই থেকে অন্য কড়াইয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে। তাহলে, এই পরিস্থিতিতে কাকে বিশ্বাস করা উচিত? অতীতের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে, নিশ্চিতভাবেই ট্রাম্প সেই ব্যক্তি নন। এটা মনে রাখা দরকার যে, হোয়াইট হাউসে এই রিপাবলিকানের প্রথম মেয়াদে অনেক বিশ্লেষণকারী সংস্থা মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতিদিন কতগুলো নির্লজ্জ মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন তার হিসাব রেখেছিল। তার চার বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদে দেখা যায় যে, ট্রাম্প প্রতিদিন প্রায় ১৪.৭টি মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন।

আমরা এখনও সংঘাতের কোনো সমাধান বা শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না। এক্ষেত্রে, মার্কিন ডলারের মূল্যের মাঝারি মাত্রার বৃদ্ধি আশা করা যেতে পারে। ট্রেডাররা বর্তমানে এমন অবস্থানে রয়েছে যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারে গণহারে বিনিয়োগ করার আর কোনো কারণ নেই। যারা নিজেদের মূলধন সুরক্ষিত করতে চেয়েছেন, তারা ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেই তা করে ফেলেছেন। একই সাথে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটবে না, কারণ সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, জ্বালানি সংকট এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব তত গুরুতর হবে। অধিকন্তু, এটি মনে রাখা উচিত যে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে সক্রিয় সংঘাতের পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে। সুতরাং, ঝুঁকি বজায় থাকছে, যা মার্কিন ডলারের জন্য একটি অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এছাড়াও, সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে স্পষ্টতই কারেকশন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। যদি তাই হয়, তাহলে আমরা নতুন করে EUR/USD পেয়ারের দরপতন প্রত্যাশা করতে পারি।

This image is no longer relevant

2 জুন পর্যন্ত শেষ পাঁচ দিনের ট্রেডিংয়ে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের গড় অস্থিরতার মাত্রা ছিল 53 পিপস এবং এটি 'মাঝারি-নিম্ন' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা যায়। আমরা প্রত্যাশা করছি যে মঙ্গলবার 1.1570 থেকে 1.1676 রেঞ্জের মধ্যে এই পেয়ারের ট্রেডিং করা হবে। লিনিয়ার রিগ্রেশনের আপার চ্যানেলটি উপরের দিকে যাচ্ছে, যা উর্ধ্বমুখী প্রবণতার পরিবর্তন নির্দেশ করে। ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রকৃত উর্ধ্বমুখী প্রবণতা সম্ভবত মার্চ থেকেই পুনরায় শুরু হয়ে থাকতে পারে। CCI সূচকটি ওভারবট জোনে প্রবেশ করেছে এবং দুটি 'বিয়ারিশ' ডাইভার্জেন্স গঠন করেছে, যা একটি নিম্নমুখী কারেকশনের সূচনার সম্ভাবনা নির্দেশ করে, যা এখনও বিকাশমান অবস্থায় রয়েছে।

নিকটতম সাপোর্ট লেভেল:

  • S1 – 1.1597
  • S2 – 1.1536
  • S3 – 1.1475

নিকটতম রেজিস্ট্যান্স লেভেল:

  • R1 – 1.1658
  • R2 – 1.1719
  • R3 – 1.1780

ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:

EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা সামগ্রিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে একটি কারেকশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্কিন ডলারের জন্য বৈশ্বিক মৌলিক পটভূমি বেশ নেতিবাচক রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে কেবল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই এটিকে সমর্থন যোগাচ্ছে। যদি এই পেয়ারের মূল্য মুভিং অ্যাভারেজের নিচে অবস্থান করে, তাহলে শর্ট পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে—যেখানে মূল্যের 1.1597 ও 1.1570-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য মুভিং অ্যাভারেজের উপরে থাকলে লং পজিশন প্রাসঙ্গিক হবে—যেখানে মূল্যের 1.1780 ও 1.1841-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। ট্রেডাররা মূলত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছে, তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের প্রত্যাশা দুর্বল হওয়ায় মার্কিন ডলারের চাহিদা বজায় রয়েছে।

চার্টের ব্যাখা:

  • লিনিয়ার রিগ্রেশন চ্যানেল চলমান প্রবণতা নির্ধারণে সহায়তা করে। যদি উভয় চ্যানেল একই দিক নির্দেশ করে, তাহলে তা শক্তিশালী প্রবণতা হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
  • মুভিং অ্যাভারেজ লাইন (সেটিংস 20,0, স্মুথেদ) স্বল্পমেয়াদি প্রবণতা এবং ট্রেডিংয়ের দিক নির্দেশ করে।
  • মারে লেভেলগুলো মুভমেন্ট ও কারেকশনের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে বিবেচিত হয়।
  • ভোলাটিলিটি লেভেলগুলো (লাল লাইন) বর্তমান ভোলাটিলিটি সূচকের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী দিনের মূল্যের সম্ভাব্য চ্যানেল নির্দেশ করে।
  • CCI সূচক যদি ওভারসোল্ড জোনে (-250-এর নিচে) বা ওভারবট জোনে (+250-এর উপরে) প্রবেশ করে, তাহলে তা ট্রেন্ড রিভার্সাল বা প্রবণতা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.