আরও দেখুন
মঙ্গলবার, ২ জুন, তুলনামূলকভাবে অল্প সংখ্যক সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। ইউরোজোনে মে মাসের মুদ্রাস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যেখানে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে ৩.২-৩.৪% হবে, যা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি কঠোর করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে। তবে, উল্লেখ্য যে মে মাসে জার্মানিতে মুদ্রাস্ফীতি ২.৯% থেকে কমে ২.৬% হয়েছে। সুতরাং, সামগ্রিকভাবে ইউরোপের মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম হতে পারে। এক্ষেত্রে, ইউরো চাপের সম্মুখীন হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, আজ চাকরির সুযোগ সংক্রান্ত JOLTS প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা মার্কিন শ্রম বাজারের পরিস্থিতির ব্যাপারে একটি পরোক্ষ ধারণা প্রদান করবে। তবে, যেকোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ট্রেডাররা প্রায় নিশ্চিতভাবেই ননফার্ম পে-রোল এবং বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করবে।
মঙ্গলবারের উল্লেখযোগ্য ইভেন্টগুলোর মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের নীল কাশকারি ও বেথ হ্যামাক এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরিস ভুজচিচের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। মূলত ইসিবিই একমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে পরবর্তী বৈঠকে মূল সুদের হার পরিবর্তন করতে পারে। তবে, বর্তমানে এ ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই, কারণ সুদের হার বৃদ্ধি করা হলে সেটি ইউরোপীয় অর্থনীতির উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে, যা জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে ইতোমধ্যেই মন্থর হয়ে পড়েছে। তাই, ইসিবি প্রতিনিধিদের বক্তব্য আকর্ষণীয় হলেও ইউরোর উপর তা সামান্যই প্রভাব ফেলবে, কারণ ট্রেডাররা পুরোপুরিভাবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকেই মনোনিবেশ করে আছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে, কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে এবং শান্তি আলোচনাও একপ্রকার ব্যর্থতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, তা "খুবই সফল হচ্ছে"। তবে, ইরানের পক্ষ থেকে এই আলোচনায় সফলতার কোনো নিশ্চয়তা এখনও পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষ নিয়মিত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে, কিন্তু যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি একই সাথে শীতল এবং উত্তপ্ত।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, সারাদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন কোনো বার্তা প্রকাশিত না হলে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের তুলনামূলকভাবে দুর্বল মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1655-1.1666 রেঞ্জে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3456-1.3476 রেঞ্জে ট্রেডিং করা যেতে পারে। কারেন্সি মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই মূল প্রভাব বিস্তার করছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।