আরও দেখুন
শুক্রবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ইউরোজোনের প্রথম প্রান্তিকের জিডিপি প্রতিবেদনের চূড়ান্ত মূল্যায়ন দিয়ে শুরু করা উচিত। আশা করা হচ্ছে যে ইউরোজোনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কমে ০.৮%-এ দাঁড়াবে, যা ইউরোর জন্য খুব একটা ইতিবাচক নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, নন ফার্ম পেরোল, বেকারত্বের হার এবং গড় মজুরির হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। স্বাভাবিকভাবেই, প্রথম দুটি প্রতিবেদন ট্রেডারদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে, কিন্তু আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই যে গত তিন মাসে ট্রেডাররা অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন উপেক্ষা করেছে। সুতরাং, আজ অস্থিরতার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের স্থিতিশীলতা সম্ভবত বজায় থাকবে।
শুক্রবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের স্বাতী ধিংরা এবং অ্যান্ড্রু বেইলির ভাষণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানদের বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করে; তবে, বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে, মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার জন্য তাদের অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং অপ্রত্যাশিত কিছু জানাতে হবে। এই সপ্তাহে বেইলি এবং লাগার্ডে ইতোমধ্যেই ভাষণ দিয়েছেন, কিন্তু তারা ট্রেডারদের কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য দেননি। মনে করিয়ে দেওয়া যাক যে, পরবর্তী বৈঠকে মূল সুদের হার পরিবর্তন করতে পারে এমন একমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ট্রেডাররা স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে, কিন্তু একই সাথে এটিকে উপেক্ষাও করছে, কারণ ইউরোর দর বৃদ্ধি পাচ্ছে না। যেহেতু মুদ্রাস্ফীতির হার কমে এসেছে, তাই এপ্রিলের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়াবে—এমনটা আশা করার কোনো মানে হয় না।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও হতাশাজনক, কারণ ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সংঘাত শুরু করার এবং আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কাছাকাছি চলে এসেছে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, তা "খুবই সফল হচ্ছে"। তবে, কূটনৈতিক এই সাফল্যের ব্যাপারে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সবুজ সংকেত আসেনি। বরং ঠিক তার উল্টোটা ঘটেছে। উভয়পক্ষ নিয়মিতভাবে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে, এবং এই সপ্তাহে তেহরান ওয়াশিংটনের সাথে যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
চলতি সপ্তাহের শেষদিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারেরই আরও বেশি অস্থিরতার সাথে ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আজ ইউরো 1.1584-1.1591 এলাকা থেকে লেনদেন করা যেতে পারে, অন্যদিকে ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3380-1.3386 এবং 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে। কারেন্সি মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই মূল প্রভাব বিস্তার করছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।