আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের সামান্য উর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর তীব্র দরপতন অব্যাহত ছিল। ট্রেডাররা অব্যাহতভাবে ফেডের "হকিশ বা কঠোর" অবস্থান গ্রহণের প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে, যা তুলনামূলকভাবে আনুষ্ঠানিক অর্থে হকিশ বা কঠোর অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যায়। লক্ষণীয় যে ফেডের আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির সদস্যদের মনোভাব সত্যিই আরও কঠোর হয়ে উঠেছে। এখন, ফেডারেল রিজার্ভের অর্ধেক কর্মকর্তা বছরের শেষ নাগাদ অন্তত একবার সুদের হার বৃদ্ধি প্রত্যাশা করছেন, যখন প্রায় এক তৃতীয়াংশ দুই বা ততোধিক ধাপে নীতিমালা কঠোরকরণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই যে ফেডের বৈঠকের আগে ট্রেডাররা ঠিক এটিই—চলতি বছর শেষের মধ্যে অন্তত একবার সুদের হার বৃদ্ধির—প্রত্যাশা করছিল।
তদুপরি, উল্লেখযোগ্য যে গতকাল ব্যাংক অফ ইঙ্গল্যান্ড বৈঠকের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে এবং তা "ডোভিশ বা নমনীয়" হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, যার ফলে ব্রিটিশ পাউন্ড একদিনে আরও 100 পিপস দরপতনের শিকার হয়েছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেছে। যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনগুলোতে ভোক্তা মূল্যস্ফীতির মন্থরতার ইঙ্গিত পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলে এই অবস্থান বেশ যুক্তিযুক্ত। তবু ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠকের ফলাফলকে "শর্তসাপেক্ষে হকিশ বা কঠোর" হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, কারণ দুজন কর্মকর্তা সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যদিও ট্রেডাররা কেবল একজন হকিশপন্থী সদস্যের প্রত্যাশা করেছিল। ফলে নিশ্চিতভাবেই ব্রিটিশ পাউন্ডের এত তীব্র দরপতনের জন্য কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না।
বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি সেল ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করে নিম্নমুখী হয়, ফলে নতুন ট্রেডাররা সহজেই শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কয়েক ঘন্টার মধ্যে এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়া ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়। দিনের শেষে ট্রেডটি প্রায় 80 পিপস মুনাফার সাথে ক্লোজ করা যেত।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বের হয়ে নিম্নমুখী হয়েছে, তবে আমরা সন্দিহান যে এই দরপতন অব্যাহত থাকবে কিনা। অবশ্য, মার্কিন ডলারের আরও দর বৃদ্ধির জন্য যদি গুরত্বপূর্ণ কোনো কারণ দেখা যায়, তাহলে এমনটা ঘটতে পারে—কিন্তু বর্তমানে এমন কোনো কারণ দেখা যায় না। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের বিষয়টি সমাধান হয়েছে এবং ফেড কেবল চলতি বছরের শেষদিকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে; এই বিষয়টি ইতোমধ্যেই মার্কেটে মূল্যায়িত হয়েছে। এই মুহূর্তে, মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা অযৌক্তিক বলেই মনে হচ্ছে।
শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3175-1.3180 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3096-1.3107 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3175-1.3180 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3259-1.3267 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যা সম্ভবত ট্রেডারদের খুব বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করবে না। যুক্তরাষ্ট্রে আজ কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।