আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে সেগুলোর প্রায় সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শুরুতেই ইউরোজোনের বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যদিও ট্রেডাররা সম্ভবত এটির প্রতি খুব একটা আগ্রহী হবে না। গতকাল ইউরোপে ভোক্তা মূল্য সূচক বা সিপিআই প্রকাশিত হয়েছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিবেদন ছিল; এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। তবে এই প্রতিবেদনের প্রতি ট্রেডাররা সামান্য প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে। আজ যুক্তরাষ্ট্রে মজুরি, বেকারত্ব এবং 'নন-ফার্ম পেরোল' বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। নিঃসন্দেহে, এই প্রতিবেদনগুলোই আজকের ট্রেডিংয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে এবং মার্কেটে এমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে যা চার্টেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।
বৃহস্পতিবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি বুচ, চিপোলোন ও এলডারসন এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সদস্য মানের বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে ঠিক গতকালই ক্রিস্টিন লাগার্ড, কেভিন ওয়ার্শ এবং অ্যান্ড্রু বেইলি বক্তব্য দিলেও ট্রেডাররা কোনো নতুন তথ্য পায়নি। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড আশা করছে যে ২০২৭ সালের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতির হার কমে আসবে এবং ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রাস্ফীতিকে ২%-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে; যদিও এটি কীভাবে অর্জন করা হবে সে বিষয়ে কেভিন ওয়ার্শ সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি। ক্রিস্টিন লাগার্ড সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং জুন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল ফেডারেল রিজার্ভই হয়তো মুদ্রানীতি কঠোর করার পরিকল্পনা করছে, তবে ট্রেডাররা ইতোমধ্যেই এই সম্ভাব্য বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে রেখেছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও স্থিতিশীলভাবে ও "শর্তসাপেক্ষে ইতিবাচক" রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে; তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে "পারমাণবিক ইস্যু," লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয় এখনো ঝুলে আছে। তাত্ত্বিকভাবে, ট্রেডাররা হয়তো পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করতে পারে, কিন্তু মার্কিন ডলারের চাহিদা ধরে রাখার জন্য এটি মোটেও যথেষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও, তেহরান ও ওয়াশিংটন শান্তি স্থাপনের পথেই রয়েছে এবং আলোচনা চলছে; যদিও কেউই আশা করছে না যে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত বা সহজ হবে।
চলতি সপ্তাহের চতুর্থ দিনের ট্রেডিংয়ে, উল্লেখযোগ্য দরপতনের পর উভয় কারেন্সি পেয়ারেরই কারেকশন অব্যাহত থাকতে পারে; তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট আজ মার্কেটে দৃঢ় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ইউরো 1.1354-1.1363 এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3259-1.3267 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। টানা দুই মাস ধরে মার্কিন ডলারের দর বাড়ছে, যা আমাদের মতে পুরোপুরিভাবে যৌক্তিক নয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।