empty
 
 
06.08.2026 11:32 AM
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ব্যাপারে ইরান ও ওমানের সমঝোতা — WTI গ্রেডের তেলের দর কমে ব্যারেল প্রতি $75-এ নেমে এসেছে

গতকাল ইরান ঘোষণা দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে প্রস্তাবিত নৌ-পথ চালুর বিষয়ে ওমানের সাথে তাদের সমঝোতা হয়েছে; জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম পুনরায় শুরুর দিকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। এই খবরের প্রভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে—সপ্তাহের প্রথম তিন দিনের ট্রেডিংয়ে 11 শতাংশ দরপতনের পর বৃহস্পতিবার শুরুর দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেল প্রতি প্রায় $79-এ এবং WTI-এর দর প্রায় $75-এ অবস্থান করছিল।

This image is no longer relevant

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, তেহরান ও মাস্কাটের মধ্যে একটি যৌথ বিবৃতির ব্যাপারে পর্যালোচনা ও চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে। তাঁর মতে, দেশ দুটির মধ্যে আলোচনা "এগিয়ে চলেছে" এবং "নির্দিষ্ট কিছু তৃতীয় পক্ষ যদি এই প্রক্রিয়ায় বাধা না দেয়," তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তিনি ওয়াশিংটনের কোনো ভূমিকার কথা উল্লেখ না করলেও এটুকু বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল গভীর রাতে বলেছিলেন যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে চুক্তি অনিবার্য। তবে ইরান নিজেই এই সম্ভাব্য অগ্রগতির বিষয়ে প্রত্যাশা কিছুটা কমিয়ে এনেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এক সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আলোচনার ফলাফলের গুরুত্বকে খাটো করে দেখিয়েছে; সূত্রটি জানিয়েছে যে, তেহরান ও মাস্কাটের মধ্যে চুক্তি মানেই যে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে খুলে দেওয়া হবে তা নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরানের অবস্থান পুরো সংঘাতের এক মূল বিষয় হয়ে রয়েছে। ইরান এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে অনুমোদন ছাড়পত্র ও ট্রানজিট ফি দাবি করেছিল এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচিত জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার পদক্ষেপ নেয়, যার ফলে গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ভেস্তে যায়। যদিও বর্তমানে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘাত স্থগিত রয়েছে, তবুও বেশ কিছু বিষয়—বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য যে, মাসের পর মাস ধরে চলা বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও এই অঞ্চল দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়েও যায়নি।

This image is no longer relevant

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $76.30-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $78.70-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $81.11 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $73.79-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $71.69 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $69.58 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.