আরও দেখুন
সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে বুধবার মাত্র একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে; আজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিতব্য মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদনটি নিয়ে ইতোমধ্যেই অনেক আলোচনা হয়েছে; জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির হার কতটা কমেছে বা বেড়েছে, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ট্রেডাররা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। আমাদের মতে, এই প্রতিবেদনটি ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বর মাসের বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করবে না। এর কারণ হলো—প্রথমত, নন-ফার্ম পেরোল প্রতিবেদনের হতাশাজনক ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার সম্ভাবনা এমনিতেই অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। এবং দ্বিতীয়ত, জুলাই মাসে মুদ্রাস্ফীতি কমলেও আগস্ট মাসে তা আবার বেড়ে যেতে পারে।
বুধবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছুই নেই। সারাদিনে কোনো বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে না। তবে, এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের প্রয়োজনও নেই। শুক্রবারের নন-ফার্ম পেরোল প্রতিবেদন প্রকাশের পর এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা করাটা যৌক্তিক নয়। আমরা আরও মনে করি যে, ২০২৬ সালেও ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার মোটেও বাড়াবে না; তবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোটা খুব একটা নিশ্চিত নয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়াতে পারে, তবে সবকিছুই নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের ফলাফলের ওপর। আগস্টের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, কারণ জ্বালানি তেলের দর আবারও বাড়ছে এবং ব্যারেলপ্রতি $100-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিয়মিত একে অপরের ওপর আঘাত হানছে এবং কোনো আলোচনা হচ্ছে না। হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং ওয়াশিংটন যদি আবারও পূর্ণমাত্রায় চাপ প্রয়োগ করে তবে বাব-এল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। ট্রেডাররা আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের উপর আস্থা রাখতে পারছে না এবং ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ওমানের সাথে আলোচনা করতেই বেশি আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ বজায় রাখে, তাহলে মাস্কাট ও তেহরানের মধ্যে কোনো চুক্তিরই আর কোনো অর্থ থাকে না। সেক্ষেত্রে ইরানও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে অবরোধ অব্যাহত রাখবে।
চলতি সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে সপ্তাহের শুরুর দিকে তুলনায় উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের অধিক সক্রিয় মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে; কারণ সপ্তাহের শুরুতে মার্কেটে কার্যত তেমন কোনো মুভমেন্ট দেখা যায়নি। আজ ইউরো 1.1527–1.1531 এবং পাউন্ড স্টার্লিং 1.3456–1.3476 এরিয়ার মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিতব্য মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদনটির ফলাফল আজ মার্কেটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।