আরও দেখুন
মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যে আজ বেকারত্বের হার, জুন মাসের মজুরি বৃদ্ধির হার এবং জুলাই মাসের বেকার ব্যক্তির সংখ্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। জার্মানি ও ইউরোজোনে ZEW ইকোনমিক সেন্টিমেন্ট সূচক প্রকাশ করা হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি নির্মাণ, বিল্ডিং পারমিট এবং এডিপি থেকে কর্মসংস্থান বিষয়ক সাপ্তাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। তবে এসব প্রতিবেদনের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বেকারত্বের হারকেই আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে পারি। শুধুমাত্র পূর্বাভাস থেকে প্রকৃত ফলাফলের কোনো বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেলেই কেবল এই প্রতিবেদনটি মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে; অন্যদিকে, অন্যান্য প্রতিবেদনগুলো মূলত কম গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলবারের উল্লেখযোগ্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেনের ভাষণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় G7-ভুক্ত দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র ইসিবি ইতোমধ্যেই মুদ্রানীতি কঠোর করেছে। তবে ইসিবি এখানেই থেমে থাকতে চায় না; ভোক্তা মূল্য সূচক আরও বৃদ্ধি পেলে তারা সুদের হার আরও এক বা দুইবার বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তাই ইসিবির প্রধান অর্থনীতিবিদের বক্তব্য থেকে ট্রেডাররা ধারণা পেতে পারেন যে, সেপ্টেম্বরে সুদের হার আরও বাড়ানো হবে কি না। আমাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকবে, ফলে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি অবরোধমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে। এর মানে, নিকট ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও তেমন সন্তোষজনক নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিয়মিতভাবে একে অপরের ওপর আঘাত হেনে চলেছে; বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। ওয়াশিংটন যদি পুনরায় চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে বাব-এল-মানদেব প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দাবিসমূহ তেহরান ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের কাছে পেশ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে চলেছেন; তবে কোনো পক্ষই সেগুলো পূরণের কোনো ইচ্ছা পোষণ করছে না। সোমবার তেহরান ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছে যে, হরমুজ প্রণালীতে বিদ্যমান মার্কিন অবরোধ তুলে না নেওয়া হলে তারা নিজস্ব উপায়ে 'অপসারণের' কাজ শুরু করবে। স্পষ্টভাবেই সামরিক উত্তেজনার সম্ভাবনা আবার বাড়ছে এবং জ্বালানি তেলের দর ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের আবারও বেশ মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ আজ কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশের সম্ভাবনা নেই। আজ ইউরো 1.1584-1.1594 এবং পাউন্ড স্টার্লিং 1.3587-1.3598 এরিয়ার মধ্যে ট্রেডিং করা যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে, আমরা মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরো ও পাউন্ডের আরও মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি, এবং শুধুমাত্র এই সপ্তাহে প্রকাশিতব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের ফলাফল বা ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহই এতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।