আরও দেখুন
শুক্রবার ট্রেডিংয়ে স্পষ্টভাবেই EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে, যার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, সপ্তাহের শুরুর দিকেই এই পেয়ারের মূল্য অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ড লাইন ব্রেক করে নিচে নেমে এসেছিল। প্রথাগতভাবে এটি বিয়ারিশ বা নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়, তাই এই পেয়ারের দরপতন হওয়াটা যৌক্তিক ছিল। দ্বিতীয়ত, শুক্রবার কেভিন ওয়ার্শ একটি বক্তব্য রাখেন, যা ট্রেডাররা আবারও "হকিশ" বা কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করেছে—অর্থাৎ ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করতে পারে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। আমাদের মতে বিষয়টি আসলে তেমন নয়, তবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে ওয়ার্শের মন্তব্যকে সেভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। তৃতীয়ত, বার্ষিক 'নন-ফার্ম পেরোল' প্রতিবেদনে কর্মসংস্থানের যে চিত্র উঠে এসেছে তা আশঙ্কার তুলনায় বেশ ইতিবাচক ছিল, যা ট্রেডাররাও ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছে। সব মিলিয়ে, তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণ শুক্রবার মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই যে, এই পেয়ারের বর্তমান দরপতন মূলত একটি কারেকশন মাত্র; মার্কিন ডলারের উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধির পেছনে এখনও তেমন কোনো দৃঢ় কারণ নেই। তবে, এই পেয়ারের মূল্য ট্রেন্ডলাইন অতিক্রম করে উপরে যাওয়ার পর কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। প্রথম সিগন্যালটি এশিয়ান ট্রেডিং সেশনের সময় 1.1655-1.1665 এরিয়া থেকে রিবাউন্ডের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল; ফলে নতুন ট্রেডাররা আগেই শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারতেন। মার্কিন ট্রেডিং সেশনেও একই ধরনের সিগন্যাল পাওয়া যায় এবং এটি গঠনের কয়েক ঘণ্টা পরেই এই কারেন্সি পেয়ারের দরপতন ঘটে এবং এটির মূল্য নিকটতম সাপোর্ট লেভেল এরিয়া 1.1584-1.1594-এর দিকে নেমে আসে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের এক মাস যাবত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর কারেকশন শুরু রয়েছে। গত কয়েক মাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সহায়তা ছাড়াই ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। বর্তমানে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য তেমন কোনো কারণ নেই, তাই এখন আমরা এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হয়, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1527-1.1531-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1655-1.1665-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1366-1.1377, 1.1461-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1665, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837। সোমবার ইউরোজোন বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। জার্মানিতে আজ আগস্ট মাসের মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা দিনের একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।