আরও দেখুন
যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে উঠতে শুরু করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1610-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছিল। ফলে এই পেয়ারের মূল্য 1.1632-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে বৃদ্ধি পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সার্ভিস সেক্টরের প্রতিবেদনটির ফলাফল অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও মার্কিন ডলারের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি—আর আমার দৃষ্টিতে আজকের পরিস্থিতির মূল বিষয় এটাই। বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সূচক বেড়ে 61.7-এ এবং নতুন অর্ডারের সূচক 60.9-এ পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। তবে উক্ত খাতে কর্মসংস্থান সূচক 47.8-এ অবস্থান করায় তা সংকোচনমূলক অবস্থাই নির্দেশ করছে; এটি মূলত চাহিদার দুর্বলতা নয়, বরং কর্মী সংকটেরই প্রতিফলন। এক্ষেত্রে মূল্য-সংক্রান্ত সূচকটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা বেড়ে 72.6-এ পৌঁছেছে। এর কারণ বেশ স্পষ্ট: টানা সাত মাস ধরে জ্বালানির দাম বাড়ছে, এবং সেই সাথে শুল্ক ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত আবারও সরবরাহ-শৃঙ্খলের প্রধান সমস্যা হিসেবে ফিরে এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের ব্যাপক প্রসারের বিষয়টিও বিশেষভাবে লক্ষণীয়। সার্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার (সুদের হার বাড়ানোর) জন্য এটি জোরালো একটি কারণ এবং আমি এখনও মনে করি যে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশ প্রবল। তবে মার্কিন ডলার এসব বিষয়কে উপেক্ষা করেছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্যাংক অফ জাপান সক্রিয়ভাবে কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেটে হস্তক্ষেপ চালিয়েছে, যা মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটিয়েছে। ইউরো এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে এবং EUR/USD-এর দর বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার বিশ্বাস, এই হস্তক্ষেপের প্রভাব স্বল্পমেয়াদে ইউরোর মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে—অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত।
আজ দিনের প্রথমার্ধে ইউরোর মূল্যের মুভমেন্ট মূলত জার্মানির ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্ডার এবং ইউরোজোনের রিটেইল সেলস বা খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল ওপর নির্ভর করবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্ডার সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায় যে এই অঞ্চলের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের ভবিষ্যত পরিস্থিতি কতটা ইতিবাচক; অন্যদিকে খুচরা বিক্রয়ের সংক্রান্ত প্রতিবেদন ভোক্তা ব্যয়ের প্রবণতা নির্দেশ করে। এই প্রতিবেদনগুলোর প্রাপ্ত ফলাফল ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা সংক্রান্ত প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করে। আমার ধারণা, প্রকাশিত ফলাফল হতাশাজনক হলেও তা ইউরোর বড় ধরনের দরপতনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে না, কারণ ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান কঠোর বা হকিশ অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা ইউরোকে সহায়তা করছে। প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল দুর্বল হলে EUR/USD-এর মূল্য সামান্য পুলব্যাক করে নিম্নমুখী হতে পারে, তবে বড় ধরনের দরপতনের সম্ভাবনা কম; কারণ ট্রেডাররা ১০ই সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ইসিবি কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপও অব্যাহত রয়েছে। আমার মতে, বড় কোনো নেতিবাচক ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটলে, ইউরোর মূল্যের মুভমেন্ট জার্মানি বা ইউরোজোনে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনের চেয়ে বরং মার্কিন ডলারের মূল্যের মুভমেন্ট দ্বারাই বেশি নির্ধারিত হবে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা 1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1657-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1636-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1657-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1622-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1636 এবং 1.1657-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
পরিকল্পনা 1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1622-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1602-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং এর নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1636-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1622 এবং 1.16020-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।