empty
 
 
09.09.2026 11:47 AM
তিন দিনে আটটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংসের পর ব্রেন্ট গ্রেডের তেলের দর $100-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে

সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে ব্রেন্ট গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর ব্যারেলপ্রতি $99–$100-এর কাছাকাছি ওঠানামা করছে। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রচেষ্টার জবাবে মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি তেলবাহি ট্যাঙ্কার ধ্বংস করে; জাহাজগুলো আইআরজিসি-র মালিকানাধীন ছিল এবং হামলার মাধ্যমে সেগুলোকে অকেজো করে দেওয়ার আগেই এর কর্মীদের জাহাজ থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে শনিবার, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও ডেস্ট্রয়ারে হামলার ব্যর্থ চেষ্টার পর আরও তিনটি ট্যাঙ্কার ধ্বংস করা হয়।

This image is no longer relevant

খার্গ দ্বীপের নোঙরস্থলের কাছে বিস্ফোরণের খবরের পর ব্রেন্ট গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় $99-এ দাঁড়িয়েছে এবং ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই বজায় রয়েছে। এই বিষয়টিই মার্কেটে ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করে: উপকূল থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপটি ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ লোড করার কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আগের ঘটনাগুলোর তুলনায় বর্তমানে হামলা থেকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মধ্যকার কার্যকারণ-শৃঙ্খলটি অনেক সংক্ষিপ্ত ও এর প্রভাব অনেক বেশি তীব্র। অতীতে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী বিচ্ছিন্ন কোনো জাহাজে হামলা চালানো হতো; কিন্তু খার্গে বিস্ফোরণের ফলে এমন সব রপ্তানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে ইরানের প্রায় সকল পণ্য বিদেশে পাঠানো হয়। এর ফলে লাভবান হচ্ছে পারস্য উপসাগর-বহির্ভূত অঞ্চলের উৎপাদনকারীরা—যাদের তেলের মূল্য কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই বেড়ে যাচ্ছে; আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইরানের অপরিশোধিত তেলের এশীয় ক্রেতারা (মূলত চীন) এবং বিশ্বজুড়ে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের ভোক্তারা—কারণ সরবরাহ কমে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে যাচ্ছে।

জ্বালানি খাতের বাইরে মূল সমস্যাটি হলো মুদ্রাস্ফীতি। আইএসএম পরিষেবা খাতভিত্তিক মূল্য সূচক বেড়ে 72.6-এ পৌঁছেছে—যা ২০২২ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ; এছাড়া উৎপাদন খাতভিত্তিক মূল্য সূচক 71.1-এ এবং ১২-মাসের গড় সূচক টানা অষ্টম মাসের মতো বেড়ে 68.5%-এ পৌঁছেছে। ইউরোপীয় গ্যাস ফিউচার্সের দর ২০২৩ সালের সমান পর্যায়ে পৌঁছেছে, অথচ শীত মৌসুমের আগে গ্যাস মজুদের পরিমাণ মাত্র ৬৫ শতাংশে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল বিক্রির মুনাফার হার (মার্জিন) রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

এটি বর্তমান মার্কিন কৌশলের মূল অসঙ্গতিটি উন্মোচন করে। আগস্ট মাসে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছিল যে তারা ইরানের ওপর অর্থনৈতিকভাবে কঠোর চাপ সৃষ্টি (বা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরির) করবে এবং বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়িয়ে যাবে; অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছিলেন যে এই চাপ প্রয়োগের কৌশলের মাধ্যমে বড় আকারে সংঘাত বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছিলেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে যেখান থেকে তাদের পক্ষে আর মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানো সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন প্রমাণিত হয়েছে: আবারও সংঘাত বা পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে এবং ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনাটি মূলত পরিকল্পনা পর্যায়েই রয়ে গেছে। চূড়ান্ত কোনো সামরিক ফলাফল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করতে সক্ষম হয়নি।

ইরানের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কতটা? ভৌগোলিক কারণে ট্রেডাররা যে এই ঝুঁকিকে কম করে দেখছে, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত। যদি একটিমাত্র ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়, তবে পণ্যবাহী জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব; কিন্তু খার্গ দ্বীপের লোডিং বা পণ্য ওঠানোর স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো রপ্তানি রুটটিই একবারে অচল হয়ে পড়বে। মার্কিন সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের পণ্য পরিবহন আগেই সীমিত হয়ে পড়েছিল, কিন্তু চীন দেশটির জ্বালানি পণ্যের ক্রয় অব্যাহত রেখেছে; আর সেই সরবরাহ যদি বাস্তবেই বন্ধ হয়ে যায়, তবে এমনিতেই টানাপড়েনের মধ্যে থাকা কমোডিটি মার্কেটে সরবরাহের ঘাটতি আরও তীব্র হবে।

শুরুর পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করা যাক: যুদ্ধের আগে (২৮ ফেব্রুয়ারি), বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি (LNG) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করত। বর্তমানে মার্কিন নৌবহর ইরানের তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে উপসাগর এলাকা ত্যাগ করতে চাওয়া আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর ইরান হামলা চালাচ্ছে। এই উভয় প্রক্রিয়াই ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে একই সময়ে সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে।

আগামী সেশনগুলোতে আমি আশা করছি যে ব্রেন্ট গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর $100 ছাড়িয়ে $100–$110 রেঞ্জের মধ্যে স্থিতিশীল হবে; কারণ খার্গ দ্বীপের অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়টি একক কোনো জাহাজের ওপর পূর্ববর্তী হুমকিগুলোর তুলনায় গুণগতভাবে ভিন্ন।

রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে খার্গ দ্বীপে চালানো হামলার বিষয়টি উল্টো পথে মোড় নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায়, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে মার্কিন প্রশাসনকে হয়তো দ্রুত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হতে পারে।

This image is no longer relevant

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $96.500-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $100.40-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $103.40 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $92.54-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $89.54 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $87.10 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.