আরও দেখুন
সোমবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের গত সপ্তাহের প্রবণতা বজায় ছিল। উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে মার্কেটে নতুন করে গড়ে ওঠা বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন ডলারের দর বেশ ভালোই বৃদ্ধি পেয়েছিল। যদিও বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো মূল সুদের হার বাড়িয়েছিল এবং শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়েনি, তবুও ট্রেডাররা যেকোনোভাবে আবারও নিশ্চিত হয়ে গেছে যে ফেডারেল রিজার্ভ আসন্ন বুধবার কঠোর বা হকিশ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে; ফলে মার্কিন ডলারের দর টানা তিন দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সোমবার ইউরোজোনে বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি বা কোনো ইভেন্টও ছিল না। সুতরাং, আমরা এখন এই পেয়ারের মূল্যের নতুন একটি নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হতে দেখছি; এটি কতদিন স্থায়ী হবে তা ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে। যদিও ট্রেডাররা এখন সেপ্টেম্বরে মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে ১০০% নিশ্চিত, তবুও পরবর্তী সময়ে আর্থিক নীতিমালা আরও কঠোর করার বিষয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। যাই হোক, ফেডারেল রিজার্ভ যদি ট্রেডারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতোমধ্যেই এই পেয়ারের মূল্যে প্রতিফলিত হয়ে গেছে। তাই বুধবার সন্ধ্যায় আমরা মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির পরিবর্তে দরপতন হতেও দেখতে পারি। তা সত্ত্বেও, আমাদের মনে হচ্ছে ট্রেডাররা আবারও কেবল মার্কিন ডলার ক্রয়ের জন্য কোনো না কোনো অজুহাত খুঁজছে।
সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি শক্তিশালী ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। সোমবারের মার্কেটে পরিলক্ষিত মুভমেন্টকে পুরোপুরিভাবে যৌক্তিক বলা না গেলেও, তা কেবল মার্কেটের সাধারণ নয়েজের চেয়ে বেশি কিছু ছিল—অর্থাৎ, তা থেকে কার্যকর ট্রেডিং সিগন্যাল পাওয়া সম্ভব হয়েছিল। প্রথমে এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য 1.1584–1.1594 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে; এরপর এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 জোনে নেমে আসে এবং সেখান থেকে আবার উপরের দিকে বাউন্স করে। এর ফলে, শর্ট পজিশন থেকে প্রায় 40 পিপস মুনাফা অর্জিত হয় এবং যারা লং পজিশন ওপেন করেছিলেন, তারা তাদের স্টপ-লস ব্রেকইভেন লেভেলে সেট করতে সক্ষম হন।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে পুনরায় EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা একটি কারেকশন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। গত কয়েক মাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি ইউরোপীয় কারেন্সির মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। বর্তমানে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির ব্যাপারে ট্রেডারদের প্রায় অন্ধ বিশ্বাসের বাইরে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য তেমন কোনো কারণ নেই।
মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1461–1.1474-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1527–1.1531 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1584–1.1594-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665, 1.1745–1.1754, 1.1830–1.1837। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে তেমন কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না; অন্যদিকে জার্মানি ও ইউরোজোনে তাদের ZEW ইকোনোমিক সেন্টিমেন্ট বা অর্থনৈতিক মনোভাব সংক্রান্ত সূচক প্রকাশিত হবে, যা ট্রেডারদের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করবে সেই সম্ভাবনা কম।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।