empty
 
 
23.09.2026 11:47 AM
ট্রেডাররাই মূল অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছে

ওয়াশিংটন থেকে ইরানের সাথে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অগ্রগতির খবর আসার পর তেলের দরপতন হওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধিজনিত উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে; এর ফলে মার্কিন ট্রেজারি ফিউচারের পাশাপাশি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সরকারি বন্ডের দরও বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সরকারি বন্ডের মার্কেটেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে এবং উভয় দেশেই ১০-বছর মেয়াদি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ অন্তত তিন বেসিস পয়েন্ট কমেছে।

This image is no longer relevant

মার্কিন ইকুইটি সূচকগুলোর ফিউচারের দর রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। শুরুতে সর্বোচ্চ 0.5% বৃদ্ধির পর MSC) এশিয়া প্যাসিফিক সূচকটি শেষ পর্যন্ত 0.1% বৃদ্ধি পেয়েছিল। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতির নির্দেশক হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকের বৃদ্ধির হার কমে 1.9%-এ দাঁড়ায়; অন্যদিকে হংকংয়ের টেক সূচক 1% এবং আলিবাবার স্টকের দর 3% হ্রাস পায়।

মার্কিন কর্মকর্তা ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যকার বৈঠককে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প "খুবই ভালো" বলে অভিহিত করার পর ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেল এক বছরের মধ্যে দীর্ঘতম টানা দরপতনের পথে রয়েছে; এই মন্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সংঘাত অবসানে ওয়াশিংটন নতুন করে প্রচেষ্টা শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের দাম 1.1% কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় $98.20-এ পৌঁছেছে এবং টানা ষষ্ঠ সেশনের মতো দরপতনের দিকে এগোচ্ছে। বর্তমানে মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি নির্ধারণে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের চেয়ে এই কূটনৈতিক উদ্যোগই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। তেলের দরপতন অব্যাহত থাকবে কি না—এবং সেই সাথে চলতি মাসের শুরুর দিকে বহু বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশের হার কোন দিকে যাবে—তা বোঝার জন্য ট্রেডাররা মূলত ইরান-সংক্রান্ত খবরের ওপরই নজর রাখছেন।

মেটা প্ল্যাটফর্মসের নতুন এআই এজেন্ট 'মিউজ' বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে; কোম্পানি দুটির মধ্যে অংশীদারিত্বের ঘোষণার পর শপিফাই-এর স্টকের দর 7.1% বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের সুদের হার আরও বাড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিতগুলোর দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকায় টানা চতুর্থ সেশনেও মার্কিন ডলার সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থেকে 0.1% বেড়েছে। স্বর্ণের দর 0.4% কমে প্রতি আউন্স প্রায় $4,345-এ নেমে এসেছে, অন্যদিকে বিটকয়েনের দর $86,600-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে।

এই সপ্তাহের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার আসন্ন শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক, যা ইরান প্রসঙ্গ ছাড়াও পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ওয়াশিংটনে ট্রাম্প শি-কে আতিথ্য দেবেন; তবে এই সফরটি নীতিগত আলোচনার চেয়ে আনুষ্ঠানিকতার ওপরই বেশি গুরুত্ব পাবে বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতির ব্যাপারে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাও বেশ সীমিত।

আমার মতে, আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প ও শি-র মধ্যকার বৈঠক মূল আলোচ্য বিষয় নয়—যেহেতু ট্রেডাররা এই বৈঠক থেকে খুব একটা কিছু আশা করছে না—বরং আসল বিষয় হলো, "খুব ভালো" বৈঠকের আশাব্যঞ্জক বাগাড়ম্বরের বাইরে ইরান সংকট সমাধানে অগ্রগতির বিষয়টি আদৌ কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় কি না। যদি কূটনৈতিক তৎপরতা এগিয়ে যায়, তবে তেলের দর ব্যারেলপ্রতি $90 বা তার নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না; আর এমনটা ঘটলে বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশের হারও কমে আসবে। তবে আলোচনার কোনো পর্যায়ে যদি অচলাবস্থা বা ব্যর্থতা দেখা দেয়, তবে তেল, স্বর্ণ ও মার্কিন ডলারের মূল্যের দ্রুত বিপরীতমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে—বিশেষ করে এশিয়ায় ছুটির মৌসুমের আগে মার্কেটে লিকুইডিটি এমনিতেই কম থাকায় এমনটা ঘটার আশঙ্কা বেশি।

This image is no longer relevant

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,774-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,793-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,810-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,756-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,737-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,718 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.