আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং সেগুলোর কোনোটিই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেইসাথে ট্রেডাররা প্রায় সকল সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন উপেক্ষা করে প্রতিদিনই মার্কিন ডলার কিনছে। তাই জার্মানির বিজনেস ক্লাইমেট বা যুক্তরাষ্ট্রের জবলেস ক্লেইমের মতো সম্পূর্ণ স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে—এমনটা আশা করা যায় না। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ট্রেডাররা এখনও শুধুমাত্র ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং অন্য সব বিষয় উপেক্ষা করছে। ইউরো ও পাউন্ডের বর্তমান দরপতনকে কোনোভাবেই যৌক্তিক বা সঙ্গত বলা যায় না।
বৃহস্পতিবারের উল্লেখযোগ্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের প্রতিনিধি থমাস বার্কিন, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদস্য ইসাবেল শ্নাবেল ও ফিলিপ লেন এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সদস্য স্বাতী ধিংরা ও সারাহ ব্রিডেনের বক্তব্য নির্ধারিত রয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহেই ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে; সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে মূল সুদের হার বাড়ানো হয়েছে এবং ডট প্লটের পূর্বাভাস অনুযায়ী ফেডের অধিকাংশ সদস্যই চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও অন্তত একবার সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন। সুতরাং, এ মুহূর্তে ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। ইসিবি এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের অবস্থানও বেশ স্পষ্ট। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির প্রেক্ষাপটে ইসিবি কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। একই কারণে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখন এই তথ্যগুলোর খুব একটা গুরুত্ব নেই, কারণ ট্রেডাররা কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মার্কিন ডলার ক্রয় করে চলেছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদলের অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে এমন ইতিবাচক ফলাফলের বিষয়ে ট্রেডারদের মধ্যে কোনো আস্থা নেই। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পেলে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটে। অথচ গত তিন সপ্তাহ ধরে মার্কিন ডলারের দর ক্রমাগত বাড়ছে।
চলতি সপ্তাহের চতুর্থ দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মন্থর দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ এই নিম্নমুখী প্রবণতা এখন আর মৌলিক, ভূ-রাজনৈতিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করছে না । আজ ইউরো 1.1366–1.1377 এবং পাউন্ড 1.3259–1.3267 এবং 1.3175–1.3180 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।