আরও দেখুন
বুধবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের একটি কারেকশন শুরু করার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছিল, তবে ব্রিটিশ পাউন্ডের দর বৃদ্ধির পেছনে আরেকটি কারণও ছিল। গতকাল যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার পূর্বের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি দেখা গেছে। এর ফলে দিনের শুরুতে পাউন্ডের দর বৃদ্ধি পেলেও দিনের শেষে তা কিছুটা কমে আসে। পুরো দিনে এই পেয়ারের মূল্য মাত্র ৩৫ পিপস বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দীর্ঘ এক মাসের দরপতনের তুলনায় বেশ দুর্বল বলেই মনে হয়। ব্রিটিশ পাউন্ডের আরও মূল্য বৃদ্ধি সম্ভাবনা আছে কি? সম্ভাবনা অবশ্যই আছে, তবে আপাতত পাউন্ডের ক্ষেত্রে কেবল একটি কারেকশনই দেখা যেতে পারে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ও শ্রমবাজার বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই যে, এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কিন ডলারেরও দর বৃদ্ধি ঘটাতে পারে; আর বর্তমানে মার্কেটে মার্কিন ডলার কেনার প্রতিই আগ্রহ অনেক বেশি। দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও, এই মুহূর্তে ট্রেডাররা ব্রিটিশ পাউন্ড কেনার বিষয়টি বিবেচনাতেই নিচ্ছে না।
বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.3259-1.3267 এরিয়ার কনসলিডেট করেছিল, যা ট্রেডারদের লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ করে দেয়। তবে, আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, মার্কেটে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকেনি; ফলে দিনের শেষে এই পেয়ারের মূল্য আগের অবস্থানে ফিরে আসে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি মূল প্রভাব বিস্তার করছে তা হলো, ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। তবে দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ট্রেডাররা শুধুমাত্র একটিমাত্র বিষয়ের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অবশ্য যদি সত্যিই এটিই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির কারণ হয়ে থাকে—যদিও এ বিষয়ে আমাদের ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। তাই, মার্কেটে পরিলক্ষিত বর্তমান মুভমেন্টকে আমরা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করছি।
বৃহস্পতিবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 জোনের নিচে কনসলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3175–1.3180-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641। আজ যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত কর্মসূচি নেই; তবে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ আইএসএম সূচক এবং জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।