আরও দেখুন
গতকাল ক্রিপ্টো মার্কেটে এই খবরটি আলোড়ন সৃষ্টি করে যে, এআই-এর অগ্রগতি ক্রিপ্টো ওয়ালেটের গাণিতিক দুর্বলতা খুঁজে বের করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
ইথেরিয়ামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিটালিক বুটেরিন সতর্ক করেছেন যে, এআই গাণিতিক গবেষণার গতি বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বিটকয়েন, ইথেরিয়াম ও অন্যান্য নেটওয়ার্কের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করা ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। গতকাল ক্রিপ্টো মার্কেটের দরপতনের প্রেক্ষাপটেই এই সতর্কবার্তা দেয়া হল।
এই সতর্কবার্তার সারকথা হলো—বুটেরিনের মতে, জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে যে এআই গাণিতিক গবেষণার গতি ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যেই ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিতে পারে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, বিটকয়েন ও ইথেরিয়াম ওয়ালেটের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত 'ইসিডিএসএ' ডিজিটাল সিগনেচার অ্যালগরিদমটি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগেই—এমনকি ব্যবহারযোগ্য কোয়ান্টাম কম্পিউটার আসার আগেই—ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। গণিতের ক্ষেত্রে নতুন কিছু ফলাফল বা আবিষ্কারের প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেছেন; যেমন—সম্প্রতি ওপেনএআই তাদের নিজস্ব একটি এআই মডেলের মাধ্যমে তৈরি কয়েকশ গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। বুটেরিন মনে করেন, আগামী দুই বছরে এআই গণিতের ক্ষেত্রে ততটাই অগ্রগতি ঘটাতে পারে, যতটা গত ৫০ বছরে অর্জিত হয়েছে।
এক্ষেত্রে তিনি তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, যেখানে সম্ভব, ক্রিপ্টোকারেন্সি এমন সব অ্যাড্রেসে রাখুন যেখান থেকে আগে কখনও কোনো লেনদেন করা হয়নি। এর কারণ হলো, এ ধরনের অ্যাড্রেসের 'পাবলিক কি' প্রকাশিত হয় না, ফলে কোনো আক্রমণকারীর কাছে কাজ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য থাকে না। দ্বিতীয়ত, মাল্টি-সিগনেচার ওয়ালেটের অংশগ্রহণকারীদের স্বাক্ষর বা 'সিগনেচার' অন-চেইন (on-chain) প্রকাশ করবেন না এবং প্রতিটি কার্যক্রমের পর 'কি' পরিবর্তন বা 'রোটেট' করুন; সম্ভব হলে অফ-চেইনে স্বাক্ষর করার ব্যবস্থা নিন। তৃতীয়ত, হ্যাশ-ভিত্তিক ক্রিপ্টোগ্রাফিকে অগ্রাধিকার দিন; কারণ তাঁর মতে, নতুন ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধে এটি সম্ভবত অধিকতর সুরক্ষিত ও শক্তিশালী।
বুটেরিন যুক্তি দেখিয়েছে যে, ইলিপটিক কার্ভ বা ল্যাটিস-এর মতো হ্যাশ-ভিত্তিক ব্যবস্থায় এমন কোনো গাণিতিক কাঠামো নেই যা এআই কাজে লাগাতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ঠিক এই কারণেই গত প্রায় এক বছর ধরে ইথেরিয়ামের 'লীন রোডম্যাপ' WOTS এবং SPHINCS+-এর মতো হ্যাশ-ভিত্তিক স্বাক্ষরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
একই সাথে বুটেরিন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, বিভিন্ন হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তিনি যতটা অর্থ হারিয়েছেন, তার চেয়ে বেশি অর্থ হারিয়েছেন অ্যাসেট ট্রান্সফারের সময় নিজের করা ভুলের কারণে। প্রসঙ্গত, গতকাল লেজার-এর প্রধান প্রযুক্তি নির্বাহীও সতর্ক করেছেন যে, তাড়াহুড়ো করে ম্যাস মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া চালালে এআই-জনিত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার চেয়ে ব্যবহারকারীদের ভুলের কারণে বেশি ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এগুলো দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি। নিকট ভবিষ্যতে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মূল্য ক্রিপ্টোগ্রাফির পরিবর্তে বন্ডের ইয়েল্ড, জ্বালানি তেলের দর এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে।
ক্রেতারা বর্তমানে বিটকয়েনের মূল্যকে $83,000-এর লেভেলে ফেরানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার ফলে এটির মূল্য সরাসরি $84,900 পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে এবং $87,000-এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে; এই লেভেল ব্রেক করে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হলে মার্কেটে পুনরায় বুলিশ প্রবণতা শুরু হয়েছে বলে সংকেত পাওয়া যাবে। দরপতনের ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্য $81,300-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে রয়েছে। বিটকয়েনের মূল্য ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে এটির মূল্য দ্রুত $79,400-এর দিকে নেমে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে $78,100 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।
ইথেরিয়ামের মূল্য $2,578-এর উপরে স্থিতিশীল হলে সরাসরি $2,668 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। পরবর্তীতে ইথেরিয়ামের মূল্য $2,739-এর দিকে যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি বুলিশ প্রবণতা শক্তিশালী হওয়ার এবং ক্রেতাদের আগ্রহ ফিরে আসার সংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $2,486-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে ETH-এর মূল্য দ্রুত $2,433-এর দিকে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে $2,367 পর্যন্ত দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
চার্টে কী কী রয়েছে