আরও দেখুন
মঙ্গলবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং সেগুলোর কোনোটিই খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। জার্মানিতে সেপ্টেম্বর মাসের মুদ্রাস্ফীতির সংশোধিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা প্রাথমিক ফলাফলের তুলনায় খুব একটা ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া, এটি কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দেশের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন এবং ট্রেডাররা বর্তমানে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতির বিষয়টিতে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই সেপ্টেম্বরের মুদ্রাস্ফীতির হার যা-ই হোক না কেন, এই প্রতিবেদন থেকে ইউরোর খুব একটা সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আজ যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান আবাসন বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে, তবে এটিও ট্রেডারদের খুব একটা আগ্রহ আকর্ষণ করবে সেই সম্ভাবনা কম। মার্কিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীলতার কারণে কিংবা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের প্রভাবে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের মধ্যে ইসিবি-র প্রতিনিধি (এলডারসন, লেন), ফেডারেল রিজার্ভ সদস্য (ওয়ালার, বার্কিন, কলিন্স) এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের প্রতিনিধির (ধিংরা) বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। তবে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মুদ্রানীতি সংক্রান্ত অবস্থান নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা বা প্রশ্ন নেই। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেডারেল রিজার্ভ সম্ভবত আরও একবার মূল সুদের হার বাড়াবে; ইসিবি-ও সম্ভবত আরও একবার একই পদক্ষেপ নেবে এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডও মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এই অবস্থান বর্তমানে EUR/USD এবং GBP/USD-এর ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলছে না।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হচ্ছে না, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে যাচ্ছেন যে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। ট্রাম্প বারবার এ কথাও বলছেন যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার সংঘাত খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যেতে পারে—এমন কথা তিনি প্রায় দুই বছর ধরেই বলে আসছেন—তাই ট্রেডাররা তাঁর এসব বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানের ব্যাপারে তাঁর সুর আবারও বদলে ফেলেন এবং জানান যে, মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর তিনি হয়তো দেশটির ওপর পুনরায় সামরিক চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করবেন। পাশাপাশি তিনি কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যকার জ্বালানি-সংক্রান্ত এক সমঝোতার কথাও ঘোষণা দেন—যে ব্যাপারে কিয়েভ বা মস্কো—কেউই কিছু জানেনা।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের সামান্য কারেকশন দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1132–1.1140এরিয়ায় এবং পাউন্ড 1.3175–1.3180 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। আজ মার্কেটে স্বল্পমাত্রার ভোলাটালিটি বা অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।