আরও দেখুন
বুধবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ার আবারও তীব্র দরপতনের শিকার হয়। এবার এর মূল কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন, যা পূর্বাভাসের চেয়ে 0.1% বেশি ছিল। এইরূপ ফলাফল ভিত্তিতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরোর 130 পিপস দরপতন কতটা যৌক্তিক, তা আপনি নিজেই বিচার করে দেখুন। মজার বিষয় হলো, এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরও ফেডারেল রিজার্ভের বছর-শেষের নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। অনেক ট্রেডারই মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা করেছিলেন; তাছাড়া ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারাও বারবার বলেছেন যে, আগামী বছর ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির হার মন্থর হয়ে আসবে এবং সুদের হার একাধিকবার বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ার সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ, মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদনটি নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন না আনলেও, এটি মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির একটি উপলক্ষ হয়ে দাঁড়ায়—কারণ ট্রেডাররা যেন মার্কিন ডলার কেনার জন্য যেকোনো অজুহাতই ব্যবহার করতে প্রস্তুত। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ ইউরো কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে আগের অবস্থানে ফিরে আসে, যা অন্তত একটি আশার আলো হিসেবে দেখা যেতে পারে। আমরা এখনও মার্কিন ডলারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে অযৌক্তিক এবং অনুমাননির্ভর বলেই মনে করছি।
বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি সেল সিগন্যাল এবং একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। এগুলোর প্রতিটিই নতুন ট্রেডারদের জন্য উল্লেখযোগ্য মুনাফা নিয়ে আসতে পারত। প্রথম সেল সিগন্যালটির ক্ষেত্রে রিয়েল-টাইমে ট্রেড করা কঠিন ছিল—কারণ মাত্র দশ মিনিটের ব্যবধানে এই পেয়ারের 90 পিপস দরপতন ঘটেছিল। 1.1132–1.1140 রেঞ্জে গঠিত বাই সিগন্যালটি কাজে লাগিয়ে ট্রেড করা সহজ ছিল এবং আজ সকালে এই পেয়ারের মূল্য নিকটতম লক্ষ্যমাত্রা 1.1198–1.1218-এ পৌঁছেছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে—এমনটা আমরা মনে করছি না; তবে ট্রেডাররা এখনও মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে এবং যেকোনো ইভেন্ট, প্রতিবেদন এবং এমনকি টেকনিক্যাল বিষয়গুলোও উপেক্ষা করে চলেছে।
বৃহস্পতিবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1132–1.1140-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1011, 1.1088, 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। বৃহস্পতিবার ইউরোজোনে শিল্প-উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক মূল্য সূচক ও খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আমরা এই প্রতিবেদনগুলোকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি না, তাই মার্কেটে সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো মূল্যের পুনরুদ্ধারের ধারা অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা দেখা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।