আরও দেখুন
শুক্রবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের সামান্য দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে, যা সামগ্রিক টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট বা বিদ্যমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। সামগ্রিকভাবে, ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে এবং সম্প্রতি প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল ট্রেডাররা আমলে নিয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার অপ্রত্যাশিতভাবে 0.2% কমেছে এবং মুদ্রাস্ফীতির হার পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি বেড়েছে। এই দুটি প্রতিবেদনের ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড নভেম্বরের শুরুর দিকে তাদের পরবর্তী বৈঠকে মূল সুদের হার বাড়াতে পারে। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পরিষেবা ও উৎপাদন খাতভিত্তিক পিএমআই সূচক প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় পাউন্ডের দর বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। তবে খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল সার্বিক ইতিবাচক পরিস্থিতি কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে; সেপ্টেম্বরে খুচরা বিক্রয় সূচক 0.4% কমেছে, যেখানে পূর্বাভাসের হার ছিল -0.1%। ফলে সপ্তাহের শেষে পাউন্ডের মূল্যের সামান্য কারেকশন দেখা যায়, তবে মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন অতিক্রম করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তাই শীঘ্রই পুনরায় এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন, অন্তত 1.3650 লেভেল পর্যন্ত পাউন্ডের দর বৃদ্ধির পেছনে এখনও অনেক টেকনিক্যাল কারণ রয়েছে। মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য কঠোর অবস্থান গ্রহণের বিষয়টি (যা কার্যকর হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে) এখনও মার্কেটে পুরোপুরিভাবে মূল্যায়িত হয়নি।
শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। দিনেরবেলায়, এই পেয়ারের মূল্য প্রথমে 1.3380–1.3386 এরিয়ায় ফিরে আসে এবং এরপর অন্তত চারবার নিচ থেকে বাউন্স করে। অস্থিরতা কম থাকায়, বড় ধরনের কোনো দরপতন দেখা যায়নি। তবে, নতুন সপ্তাহের শুরুতে এই দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে এবং এখন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হওয়ার দৃঢ় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ চার্টের টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন ডলারের ওভারবট কন্ডিশন—সবকিছুই GBP/USD-এর মূল্যবৃদ্ধির অনুকূলে রয়েছে।
সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়া থেকে আবারও বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল হয়, তাহলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456–1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। সোমবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। তাই মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মতো তেমন কোনো বিষয় থাকবে না; এমতাবস্থায় স্বল্পমাত্রার অস্থিরতার মধ্যে কেবল টেকনিক্যাল চার্টের ওপর ভিত্তি করেই ট্রেড করা উচিত।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।