আরও দেখুন
যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের বেশ নিচে নেমে গিয়েছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1195-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করেছিল। এই কারণে আমি ইউরোর সেল পজিশন ওপেন করিনি।
চলতি সপ্তাহটি গতকাল ইউরোর জন্য আশার এক ক্ষীণ ঝলক নিয়ে শুরু হয়েছিল, তবে তা স্থায়ী হয়নি। ফ্রান্সে বিক্ষোভ পরিস্থিতির ব্যাপারে যতটা আশঙ্কা করা হয়েছিল ততটা অস্থিরতা দেখা যায়নি এবং কমোডিটি মার্কেটেও কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়, যা ইউরোকে সাময়িকভাবে কিছুটা সহায়তা দেয়। কিন্তু এরপরই শুরু হয় প্রায় অবিরাম দরপতন, আর ইউরোপ থেকে আসা কোনো প্রতিবেদনই পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে পারেনি। জার্মানির Ifo প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, ব্যবসায়ীরা বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশাকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন। বিজনেস ক্লাইমেট সংক্রান্ত সূচকটি 89.8-এর পূর্বাভাসের বিপরীতে বেড়ে 90.2-এ পৌঁছালেও, বর্তমান পরিস্থিতির সূচকটি কমে 88.8-এ নেমে এসেছে; এর কারণ হলো জ্বালানির উচ্চমূল্য, যা কোম্পানিগুলোর ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রত্যাশার ক্ষেত্রে আশাবাদ এবং বর্তমান পরিস্থিতির দুর্বলতা—এই দুইয়ের মধ্যকার এই বৈপরীত্য ফরেক্স মার্কেটের জন্য উদ্বেগজনক। আগস্ট মাসে যদি Ifo সূচক 88.8-এ থেকে থাকে এবং পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, তবে এখন আবার সেই পর্যায়ে ফিরে আসা এটাই নির্দেশ করে যে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটি এখনো বেশ ভঙ্গুর।
ইউরোপে আজকের প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনগুলো মার্কেটে বড় কোনো চমক নিয়ে আসবে বলে মনে হচ্ছে না। ইউরোজোনের প্রকাশিতব্য প্রতিবেদন মধ্যে রয়েছে সেপ্টেম্বরের বেসরকারি খাতের ঋণ, M3 মানি সাপ্লাই এবং স্পেনের তৃতীয় প্রান্তিকের বেকারত্বের হার; পূর্বাভাস অনুযায়ী এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল আগের মানের কাছাকাছিই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেসরকারি খাতের ঋণের হার 3.1%, M3 মানি সাপ্লাই 3.6% (আগের হার ছিল 3.5%) এবং স্পেনের বেকারত্বের হার 9.90% (আগের হার ছিল 9.87%) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলোর তাৎপর্য বেশ স্পষ্ট। ঋণের পরিমাণ থেকে বোঝা যায় যে, পরিবার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ নিচ্ছে কি না; ঋণের হার যত বেশি হয়, অর্থনীতি তত শক্তিশালী হিসেবে গণ্য হয়—তবে সুদের হার বেশি থাকলে সাধারণত ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে যায়। জুলাই মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল 4.1% (জুন মাসে যা ছিল 3.8%) এবং M3 মানি সাপ্লাই বৃদ্ধি পেয়ে 3.4%-এ পৌঁছ ছিল (জুন মাসে ছিল 3.3%)—অর্থাৎ, তখন থেকেই মানি সাপ্লাইয়ের গতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। M3 মানি সাপ্লাইয়ে নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানতের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত থাকে; ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস পেতে এটিকে একটি নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করে। স্পেনের বেকারত্বের হার এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতির শ্রমবাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে, যদিও ফরেক্স মার্কেটে এই প্রতিবেদনের সরাসরি প্রভাব বেশ সীমিত।
গতকাল এশীয় সেশনের ইতিবাচক প্রবণতা কিংবা Ifo সূচকের শক্তিশালী ফলাফলকোনোটিই ইউরো দরপতন থামাতে পারেনি, এমন একটি নিরপেক্ষ পরিস্থিতিতে ইউরো বেশ চাপের মুখে রয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২৯শে অক্টোবরের বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে আর্থিক নীতিমালা কঠোরতা আরোপে বিরতি নেয়ার (অর্থাৎ সুদের হারে কোনো পরিবর্তন না আসার সম্ভাবনা) প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তের আগে সতর্কতামূলক মনোভাবের কারণে মার্কিন ডলার কিছুটা সমর্থন পাচ্ছে। আমার মতে, শক্তিশালী কোনো প্রভাবক না থাকলে EUR/USD পেয়ারের চাপের মুখেই থাকবে এবং আসন্ন প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল স্বল্পমেয়াদী প্রবণতায় কেবল সামান্য পরিবর্তনই আনতে পারে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা 1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1194-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1171-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1194-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ ইউরোজোনে আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1154-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1171 এবং 1.1194-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
পরিকল্পনা 1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1154-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1135-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং এর নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.1171-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1154 এবং 1.1135-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।