আরও দেখুন
মঙ্গলবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই গত চার দিনে প্রায় 120 পিপস দরপতন ঘটেছে। প্রায় এক মাস ধরে 600০ পিপস দরপতনের পর, আমরা একটি উল্লেখযোগ্য কারেকশনের প্রত্যাশা করেছিলাম; কিন্তু ট্রেডাররা যেন ইউরোকে ঝুঁকিপূর্ণ কারেন্সি হিসেবে গণ্য করে তা কিনতে একেবারেই আগ্রহী নয়। গতকাল মার্কিন ডলার কেনার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক কারণ ছিল: যুক্তরাষ্ট্রের ডিউরেবল গুডস অর্ডার সংক্রান্ত প্রতিবেদনটির ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে বেশ ইতিবাচক ছিল, যা মার্কিন ডলারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও সম্প্রসারিত করেছে—যদিও প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগেই মার্কিন ডলার শক্তিশালী হতে শুরু করেছিল। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ইউরো আবারও দরপতনের শিকার হচ্ছে—কখনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের কারণে, কখনো কোনো প্রতিবেদন ছাড়াই, কখনো ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালা কঠোর হওয়ার প্রত্যাশায়, আবার কখনো ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ নিয়ে নানা ধারণার বশবর্তী হয়ে—অর্থাৎ, যেকোনো অজুহাতেই ইউরোর দরপতন ঘটছে। আজ রাতে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে; যদিও তারা সুদের হার বাড়াবে না, তবুও এই ইভেন্টকে কেন্দ্র করে মার্কিন ডলারের দর আবারও বাড়তে পারে—যদিও গত চার দিন ধরেই ট্রেডাররা কোনো কারণ বাছবিচার না করেই মার্কিন ডলার কিনে চলেছেন।
মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, যা শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি করে—যেগুলো বুধবার পর্যন্ত বজায় রাখা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1132–1.1140-এর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। এই পেয়ারের মূল্য ওই এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করার চেষ্টা করলেও তা শক্তিশালী কোনো পুনরুদ্ধার ঘটাতে ব্যর্থ হয়; বরং এরপর এই পেয়ারের মূল্য ওই এরিয়ার নিচে নেমে আসে এবং ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে আজও দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এখনও EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা পূর্ণাঙ্গ প্রবণতার রূপ নিয়েছে; এখনও ইউরোর মূল্যের কোনো কারেকশন হতে দেখা যায়নি। গত কয়েক মাসের সার্বিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, টানা এক মাস ধরে এভাবে ইউরোর দরপতন হওয়ার কথা ছিল না। বর্তমানে মার্কিন ডলার ওভারবট কন্ডিশনে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং ইউরোর পক্ষে বিদ্যমান অনেক ইতিবাচক মৌলিক বিষয়কে উপেক্ষা করা হয়েছে।
বুধবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1132–1.1140 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1088-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য নিশ্চিতভাবে 1.1132–1.1140 এরিয়ার উপরে পৌঁছালে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1198–1.1218-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1011, 1.1088, 1.1132–1.1140, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। বুধবার ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে; ফলে অন্যান্য ইভেন্টগুলো মূলত গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ যে তাদের মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে—তা প্রায় নিশ্চিত (এর ৯৯% সম্ভাবনা রয়েছে বলে ট্রেডাররা ধরে নিয়েছে)। তবে কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যে ট্রেডাররা হয়তো মুদ্রানীতির ব্যাপারে হকিশ বা কঠোর ইঙ্গিত খুঁজে পেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, যেকোনো অজুহাতেই মার্কিন ডলারের দর বেড়ে যাচ্ছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।