আরও দেখুন
মঙ্গলবার পুরো সময়জুড়ে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। এর আগে ইউরোর বিপরীতে পাউন্ডের স্টার্লিংয়ের বেশ ভালোই কারেকশন দেখা গিয়েছিল, যা এখনও একটি যথাযথ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার আশা জাগিয়ে রেখেছে। উল্লেখ্য যে, দৈনিক ও সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে পাউন্ডের মূল্য এখনও একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যেই রয়েছে; এই চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি টেস্ট করার পর, আপার বাউন্ডারির দিকে এগিয়ে যাওয়াই পরবর্তী যৌক্তিক মুভমেন্ট হতে পারে। তাই আমরা এখনও অন্তত 1.3650 পর্যন্ত এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি। তবে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাউন্ড উল্লেখযোগ্যভাবে দরপতনের শিকার হয়েছে। ট্রেডাররা ধারণা করছে যে, আগামী সপ্তাহে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ; কিন্তু প্রায়শই দেখা যায়, ট্রেডাররা এমন অনেক বিষয়কে উপেক্ষা করে যা ইউরো ও পাউন্ডের পক্ষে কাজ করতে পারে। আজ রাতে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের সিদ্ধান্তের ঘোষণা করা হবে, তবুও মার্কিন ডলারের দর বাড়ছে। যদিও ইউরোর তুলনায় পাউন্ড স্টার্লিংয়ের ট্রেডিং অনেক বেশি টেকনিক্যাল বা চার্ট-নির্ভর, তবুও আমরা মার্কেটের বর্তমান পরিস্থিতিকে আংশিকভাবে স্পেকুলেটিভ হিসেবেই দেখছি।
মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, দুটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মূল্য প্রথমে 1.3319–1.3331 এরিয়া অতিক্রম করে, এরপর নিচ থেকে বাউন্স করে, যা নতুন ট্রেডারদের শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ করে দেয়। ট্রেডাররা চাইলে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই শর্ট পজিশনগুলো হোল্ড করে রাখতে পারেন।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে এবং এখন ইউরোর মূল্যের তুলনায় পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হওয়ার দৃঢ় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ চার্টের টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন ডলারের ওভারবট কন্ডিশন—সবকিছুই GBP/USD-এর মূল্যবৃদ্ধির অনুকূলে রয়েছে।
বুধবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 এরিয়া ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3259–1.3267-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল হয়, তাহলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380–1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। আজকের মূল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ফেডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং উক্ত বৈঠকের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে সুদের হার সম্ভবত অপরিবর্তিতই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ওয়ার্শের বক্তব্যের ধরন অনুযায়ী নতুন করে মার্কিন ডলারের মূল্যের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। সন্ধ্যার দিকে মার্কেটে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।