empty
 
 
28.10.2026 11:19 AM
নির্বাচনের পর ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন

টানা দুই দিন দরপতনের পর আজ জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। ডিসেম্বর মাসে ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের মূল্য প্রায় 1.5% বেড়ে প্রতি ব্যারেল $115-এ পৌঁছেছে; অন্যদিকে ডব্লিউটিআই-এর মূল্যও প্রায় একই হারে বেড়ে $101-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে।

This image is no longer relevant

এর মূল কারণ হলো ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন। পত্রিকাটির ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশকে একটি সংক্ষিপ্ত অথচ তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সূত্র অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে তিনি নির্বাচনের পর বড় ধরনের হামলার দিকে ঝুঁকে আছেন। এর আগে গুঞ্জন ছিল যে, হোয়াইট হাউস পেন্টাগনকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে বলেছিল। এখন সেই সময়সীমা পিছিয়ে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ের দিকে সরে গেছে, তবে মূল উদ্দেশ্য একই রয়ে গেছে। ট্রাম্প পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছেন, যার মধ্যে তৃতীয় একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপও (বিমানবাহী রণতরী ও নৌবহর) রয়েছে। এছাড়া সপ্তাহান্তে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সমঝোতা না কি নতুন হামলা—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে।

দ্বিতীয় কারণটি হলো ইসরায়েল। দেশটির ভোট-পরবর্তী দুটি জরিপে দেখা গেছে, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের জোট এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে; তৃতীয় একটি জরিপে নেতানিয়াহুকে সামান্য এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। কোনো পক্ষেরই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে দীর্ঘস্থায়ী জোটভিত্তিক আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে, এমনকি পুনরায় নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুই প্রধানমন্ত্রী থাকছেন এবং তিনি ট্রাম্পের নতুন কোনো সামরিক অভিযানে সমর্থন দিতে পারেন।

পাশাপাশি ঝুঁকিও এখনো অনেক বেশি। ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল টার্মিনাল রাস তানুরার কাছে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একই ধরনের হামলা হয়েছিল; তখন একটি ড্রোন 'শায়বাহ' তেলক্ষেত্রে আঘাত হানে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের দেশটি থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

মজুত পরিস্থিতির পরিবর্তনও জ্বালানি তেলের মূল্যকে একই অভিমুখে চালিত করছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ২০ লাখ ব্যারেল কমেছে—যা আগে থেকেই সীমিত থাকা মজুত পরিস্থিতির মধ্যে আরও একবার সাপ্তাহিক ভিত্তিতে হ্রাস নির্দেশ করছে। আজ জ্বালানি বিভাগের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে; পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগের সপ্তাহের ৩০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল হ্রাসের তুলনায় এবার প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল মজুত কমতে পারে। জ্বালানি বিভাগ যদি সামান্য পরিমাণ হ্রাসও নিশ্চিত করে, তবে তা সরবরাহ সংকটের ধারণাকে আরও জোরালো করবে।

এরপর ট্রেডাররা ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের দিকে নজর দেবে। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রানীতি ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানের পক্ষে প্রধান যুক্তি হিসেবে কাজ করছে, কারণ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলে তা মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নমনীয় অবস্থান গ্রহণের সুযোগকে সীমিত করে ফেলে। জ্বালানির উচ্চমূল্য রপ্তানিকারকদের জন্য আশীর্বাদ হলেও তা ভোক্তাদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়—আর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে এটি রিপাবলিকানদের জনসমর্থনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার ঝুঁকি তৈরি করছে।

This image is no longer relevant

আমার ধারণা, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের মূল্য $110-এর উপরেই থাকবে। সৌদি স্থাপনাগুলোর ওপর নতুন কোনো হামলার পরিকল্পনা বা এ সংক্রান্ত কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে, জ্বালানি তেলের মূল্য অনায়াসেই আবার $120-এর দিকে চলে যেতে পারে। কেবল সুনির্দিষ্ট কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি হলেই জ্বালানি তেলের দরপতন হতে পারে বলে আমি মনে করি; তবে এখন পর্যন্ত কেবল "সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়েছে"—এমন কথাবার্তাই শোনা যাচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $102-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $105-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $109 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $98-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $95 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $92 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.