আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ ইসিবির বৈঠক বা ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্যের সাথে পাউন্ডের তেমন কোনো সম্পর্ক ছিল না, আবার যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলও মার্কিন ডলারের জন্য ইতিবাচক ছিল। আমরা বারবার জোর দিয়ে বলেছি যে, বর্তমানে পাউন্ডের স্টার্লিংয়ের মূল্যের মুভমেন্টের প্রধান চালিকাশক্তি হলো টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ। টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য দৈনিক চার্টের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে—অর্থাৎ প্রায় 1.3650-এর লেভেলের দিকে—এগিয়ে যেতে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন যে, মার্কিন ডলার বর্তমানে ওভারবট কন্ডিশনে রয়েছে এবং সম্ভবত এর দামও প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি রয়েছে। কারণ, গত কয়েক মাস ধরে ট্রেডাররা ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক মুদ্রানীতি কঠোরকরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর মতো বিষয়গুলোর প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করেই ট্রেডিং করেছে। এই প্রক্রিয়ায় পাউন্ডের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অনেক বিষয়কেই উপেক্ষা করা হয়েছে। সুতরাং, নতুন কোনো মৌলিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটগত সহায়তা ছাড়াই পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মূল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং তা হওয়াটাই স্বাভাবিক। আগামী সপ্তাহে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ট্রেডাররা এখনো পুরোপুরি বিবেচনায় নেয়নি।
বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। এই পেয়ারের মূল্য প্রথমে 1.3319–1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, এরপর এই এরিয়ার উপরে ক্লোজ হয় এবং পরিশেষে 1.3380–1.3386 জোনটি অতিক্রম করে। ফলে, প্রথম শর্ট পজিশনটি লাভজনক না হলেও পরবর্তী লং পজিশনটি লাভজনক ছিল। সর্বশেষ বাই সিগন্যালটি ট্রেডারদের শুক্রবার পর্যন্ত লং পজিশন হোল্ড করে রাখার সুযোগ করে দিয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে এবং এখন ইউরোর মূল্যের তুলনায় পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হওয়ার দৃঢ় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ চার্টের টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন ডলারের ওভারবট কন্ডিশন—সবকিছুই GBP/USD-এর মূল্যবৃদ্ধির অনুকূলে রয়েছে।
শুক্রবার, এই পেয়ারের মূল্য আবারও 1.3380–1.3386 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যেহেতু এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়ার উপর স্থিতিশীল হয়েছে, তাহলে লং পজিশন হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3456–1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। শুক্রবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না—মূলত ইউরোজোনে উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। তা সত্ত্বেও, কোনো প্রতিবেদনের সহায়তা ছাড়াই পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।