আরও দেখুন
শুক্রবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। জার্মানিতে বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। ইউরো জোনে জিডিপি ও বেকারত্বের সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। ইউরোপীয় প্রতিবেদনগুলো মার্কেটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না। বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলো মার্কেটের মূল চালিকাশক্তি নয়। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ও মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল মার্কিন ডলারকে সহায়তা করতে পারত, অথচ তার পরিবর্তে ইউরো ও পাউন্ডের দর বেড়েছে। মার্কিন ডলার বর্তমানে ওভারবট কন্ডিশনে রয়েছে এবং বলা যায়, এটির দর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে—তাই বিভিন্ন ধরনের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেও মার্কিন ডলারের দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট হিসেবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেনের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। তবে গতকালই ইসিবির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ট্রেডাররা ইতোমধ্যেই অবগত আছেন। তাই আমরা লেনের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন ঘোষণার প্রত্যাশা করছি না। এটি স্পষ্ট যে, ইউরোজোনে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির মোকাবিলায় ফেডারেল রিজার্ভের মতোই ইসিবিও মুদ্রানীতির কঠোরকরণ অব্যাহত রাখবে। এটিও স্পষ্ট যে, ইসিবির এই কঠোর অবস্থান গ্রহণের বিষয়টি ট্রেডাররা এখনো পুরোপুরিভাবে বিবেচনায় নেয়নি।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ প্রতিকূল রয়ে গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা চলছে না, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেটি কবে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইরানের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারা গেলে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় ইরানে হামলা শুরু করতে পারে। আমাদের কাছে যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধ অবসানের চেয়ে এই পরিস্থিতিটিই বেশি সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানও এই অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও, ইউরোপের অনেক দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, যা ইউরোর ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারছে না।
চলতি সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে ইউরোজোনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের কথা থাকায় উভয় কারেন্সি পেয়ারের সক্রিয় ট্রেডিং দেখা যেতে পার। আমরা ইউরো ও পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রবণতা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছি। আজ EUR/USD পেয়ার 1.1198–1.1218 এরিয়ায় এবং GBP/USD পেয়ার 1.3380–1.3386 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।