আরও দেখুন
সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ
বৃহস্পতিবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদনগুলোর কথা বাদ দিলে কার্যত উল্লেখযোগ্য কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে, ইউরোজোনের প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (PPI) বা যুক্তরাষ্ট্রের জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রতি ট্রেডারদের খুব একটা মনোযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন—এডিপি এবং আইএসএম সূচক—প্রকাশিত হয়েছে, অন্যদিকে ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের ফলাফল সত্ত্বেও মার্কেটের বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। আজ ট্রেডাররা ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে দৃষ্টিপাত করছে।
বৃহস্পতিবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনটি প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডই সর্বশেষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল সুদের হার বাড়াতে যাচ্ছে, যা বিষয়টিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ইউরোর বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে টেকনিক্যালভাবে বেশ সুসংগত ধারায় ট্রেডিং করা হচ্ছে, তাই পাউন্ডের আরও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্যের দিকে নজর দেওয়ার খুব একটা কারণ নেই; কারণ ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি কঠোর করার পদক্ষেপে ট্রেডাররা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। বরং ইউরোর মূল্য সর্বনিম্ন লেভেলের কাছাকাছিই রয়ে গেছে এবং কোনো ধরনের কারেকশনের সক্ষমতাও দেখাতে পারেনি।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ প্রতিকূল রয়ে গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা চলছে না, অন্যদিকে, নির্বাচনে নিজের দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর ইরানের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও নিশ্চিত নন বলে মনে হচ্ছে। গতকাল ডেমোক্র্যাটরা ঘোষণা করেছেন যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসানের দাবি জানাবেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, "আমি যখন চাইব, তখনই যুদ্ধ শেষ হবে।" সুতরাং, সামরিক সংঘাত শেষ হয়ে গেছে বলে আনন্দ করার সময় এখনও আসেনি। তবে গতকাল জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক একটি ঘটনা।
চলতি সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে মার্কেটে উচ্চমাত্রার অস্থিরতা দেখা যেতে পারে, কারণ আজ ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আজ ইউরোর মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যেই অবস্থান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, অন্যদিকে পাউন্ডের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।। EUR/USD কারেন্সি পেয়ার 1.1267–1.1275 রেঞ্জ থেকে এবং GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের ক্ষেত্রে 1.3456–1.3476 রেঞ্জ থেকে ট্রেড করা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।