empty
 
 
16.01.2026 12:05 PM
ফেডের বেশিরভাগ কর্মকর্তাই সরাসরি সুদের হার হ্রাসে বিরতির পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন

বৃহস্পতিবার মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধির মন্তব্যের পর মার্কিন ডলার ইউরো, পাউন্ড ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে। তারা জানান যে শ্রমবাজারর পরিস্থিতি স্থিতিশীলতা এবং মুদ্রাস্ফীতির স্থায়ী চাপের প্রেক্ষিতে তারা আগামী বৈঠকে সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বিরতি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

This image is no longer relevant

ট্রেডাররা এবং বিনিয়োগকারীরা এই মন্তব্যগুলোকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলার দৃঢ় প্রত্যয়ের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করেছে, যদিও এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে যেতে পারে। ফেডের প্রতিনিধিদের মন্তব্যগুলোর ফলেই মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।


শক্তিশালী ডলারের প্রেক্ষিতে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড চাপের মুখে পরেছে। ইউরোপীয় অর্থনীতি নিজস্ব সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম স্থিতিশীল রয়েছে। পাউন্ডের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির হার নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।


এখন পর্যন্ত—মোট পাঁচজন আঞ্চলিক ফেড ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট—এই কথা বলেছেন যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এখন আসন্ন প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণের জন্য অপেক্ষা করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ব্যাপকভাবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে ফেড ২৭–২৮ জানুয়ারির বৈঠকে মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে।


এই মন্তব্যগুলো গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল জানার পর করা হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে যে ডিসেম্বর মাসে বেকারত্ব হার 4.4%-এ নেমে এসেছে, যেখানে সূচকটির আগের কয়েক মাসের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থেমেছে, এবং মুদ্রাস্ফীতির বার্ষিক হার প্রত্যাশামতো মন্থর হচ্ছে না। তদুপরি, ফেডের পছন্দের মুদ্রাস্ফীতি সূচকটি এমনকি প্রায় 3%-এর কাছাকাছি থাকতে পারে—যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পুরো এক শতাংশ পয়েন্ট বেশি।


শিকাগো ফেড প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবি বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন "আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল মুদ্রাস্ফীতিকে আবার 2%-এ ফিরিয়ে আনা।" সেইসাথে তিনি তাঁর অঞ্চলজুড়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি ও বাসস্থানের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাসের বিষয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছেন। শিকাগো ফেড প্রধান আরও বলেছেন যে শ্রমবাজার নিয়ে পূর্বের উদ্বেগ নিয়ে তিনি এখন আর বিচলিত নন, এবং অনিশ্চয়তার কারণে বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই না করে ব্যবসায়ীরা নিয়োগ প্রক্রিয়া ধীর করে দিয়েছে।


গুলসবি এবং তাঁর কান্সাস সিটির সহকর্মী জেড স্মিড দুজনেই ফেডের ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদ হার হ্রাসের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেননি। বৃহস্পতিবার এক ইভেন্টে স্মিড পুনরায় সুদের হার আরও হ্রাস না করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জানিয়েছেন যে মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতির অবনতি রোধ করতে শ্রমবাজার পরিস্থিতির কিছুটা দুর্বলতা সম্ভবত প্রয়োজনীয়।


বর্তমানে ফিউচার্স মার্কেটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা এই বছরের প্রথমার্ধে সুদের হার হ্রাসের প্রত্যাশা করছেন না।


সাম্প্রতিককালে ফেডের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা যারা সুদের হ্রাসের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন, তারাও বৃহস্পতিবার মন্তব্যে সুদের হার হ্রাসে বিরতির পক্ষে কথা বলেছেন। এদের মধ্যে ছিলেন সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডালি, যিনি বলেছেন যে ফেডের আর্থিক নীতিমালা ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে, এবং ফিলাডেলফিয়া ফেডের প্রেসিডেন্ট আনা পলসন, যিনি জানিয়েছেন যে তিনি এই মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য মনে করেন।

EUR/USD-এর বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1625 লেভেলে নিয়ে যেতে হবে। কেবলমাত্র এই লেভেল অতিক্রম করলেই এই পেয়ারের মূল্যের 1.1650 লেভেলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। সেখান থেকে এই পেয়ারের মূল্য 1.1680 পর্যন্ত বাড়তে পারে, কিন্তু বড় ট্রেডারদের সহায়তা ছাড়া তা করা কঠিন হবে। সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1710-এর লেভেল বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি এই পেয়ারের দরপতন হয়, আমি কেবল মূল্য 1.1600 লেভেলের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় বড় ক্রেতাদের তৎপরতার প্রত্যাশা করছি। সেখানে ক্রেতারা সক্রিয় না হলে, এই পেয়ারের 1.1560 পর্যন্ত দরপতনের জন্য অপেক্ষা করা বা 1.1530 থেকে লং পজিশন ওপেন করা যুক্তিযুক্ত হবে।

GBP/USD-এর টেকনিক্যাল চিত্রের ক্ষেত্রে, পাউন্ডের ক্রেতাদের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স 1.3395 লেভেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রয়োজন। কেবল এই লেভেলে অতিক্রম করলে এই পেয়ারের মূল্যের 1.3420 লেভেলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে, যদিও এই লেভেলে ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ কঠিন হবে। সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে 1.3440 লেভেল বিবেচনা করা হচ্ছে। দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য 1.3365 লেভেল থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর জন্য গুরুতর আঘাত হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3340 লেভেলে নেমে যেতে পারে, যেখানে সম্ভাব্যভাবে 1.3310 পর্যন্ত দরপতন হওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.