empty
 
 
11.02.2026 08:37 AM
১১ ফেব্রুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

মঙ্গলবার স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার সাথে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। সোমবার চীনা সরকার কর্তৃক দেশটির বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মার্কিন ট্রেজারি বন্ড কেনা থেকে বিরত থাকার "পরামর্শ" সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেতে দেখেছিলাম। তবু মঙ্গলবার একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের ফলাফল দুর্বল ছিল—যেখানে ডিসেম্বরে সূচকটির শূন্য বৃদ্ধির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে সূচকটির +0.4% বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। কিন্তু মার্কেটের ট্রেডাররা তখন বিরতির মেজাজে ছিল এবং এই প্রতিবেদনটির ফলাফল উপেক্ষা করেছে। এই বিরতি আজকের প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতির অংশ ছিল। আজ যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম পেরোল এবং বেকারত্বের হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এসব প্রতিবেদন নিয়ে অনেক আলোচনা করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো এখনও ডলারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ—কারণ এগুলোর ফলাফল সরাসরি ফেডের আর্থিক নীতিমালাকে প্রভাবিত করে। মার্কিন শ্রমবাজার পরিস্থিতি এখনও নাজুক অবস্থায় আছে, যা ফেড কর্তৃক আর্থিক নীতিমালা নমনীয়করণের সম্ভাবনা জোরদার করেছে।

EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

This image is no longer relevant

মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে সম্পূর্ণভাবে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট হওয়ার কারণে এই পেয়ারের মূল্য গুরুত্বপূর্ণ লেভেল বা এরিয়াগুলো উপেক্ষা করেছিল। নিঃসন্দেহে নতুন ট্রেডারদের জন্য পরিস্থিতি অনুধাবন করা এবং ট্রেড ওপেন করা কঠিন ছিল। তথাপি মার্কিন ট্রেডিং সেশনের সময় এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট হবে না—স্পষ্টভাবেই মার্কেটের ট্রেডাররা আজ প্রকাশিতব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন অপেক্ষায় ছিল। ট্রেডারদের জন্য এটি সেরা দিন ছিল না, কিন্তু মাঝে মাঝে এরকম দিনও আসে।

বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী করেকশন এখনও কার্যকর আছে, তবে শীঘ্রই আবার উর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। মনে রাখবেন যে এই পেয়ারের মূল্যের সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তবে ২০২৬ সালের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। অতএব, আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ডলারের দরপতনের প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে, যা ইউরোর মূল্যের আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1899-1.1908 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1830-1.1837-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য1.1899-1.1908 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.1970-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, এবং 1.2092-1.2104। আজ ইউরোজোনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম পেরোল, বেকারত্ব হার এবং মজুরি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। তাই মার্কিন ট্রেডিং সেশনের শুরুতে মার্কেটে প্রবল অস্থিরতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.