empty
 
 
23.02.2026 08:09 AM
২৩ ফেব্রুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য প্রত্যাশা অনুযায়ী উর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রদর্শন করেছে, এবং নতুন সপ্তাহে নতুন করে এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। পরিলক্ষিত পরিস্থিতি যৌক্তিক মনে হচ্ছিল, কারণ তাত্ত্বিকভাবে শুক্রবারে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কিন ডলারের জন্য ইতিবাচক ছিল না। তবে আমাদের মতে, গত সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর সংখ্যা ও ফলাফল বিবেচনা করলে মার্কিন ডলার বেশ দুর্বলভাবেই দরপতনের শিকার হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

প্রথমত, ইউরোজোন ও জার্মানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচকগুলোর ইতিবাচক ফলাফল দেখা গিয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের মার্কিন জিডিপির ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় দুই গুণ (!!!) দুর্বল ছিল। সন্ধ্যায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত বেশিরভাগ বাণিজ্য শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল; কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে 10% শুল্ক আরোপ করেন এবং শনিবার সেগুলো 15%-এ উন্নীত করা হয়। সুতরাং, সকল শুল্ক কোনো না কোনোভাবে বজায় থাকল, এবং কিছু শুল্ক বাড়ানোও হয়েছে। আমরা মনে করি এগুলোই ডলারের আরও বেশি মাত্রায় দরপতন ঘটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। তবু সম্ভবত মার্কেটের ট্রেডাররা এই তথ্যগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেনি।

EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবার 5-মিনিট টাইমফ্রেমে দুটি চমৎকার বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে, এবং মার্কিন সেশনে পুনরায় আরেকটি বাউন্স ঘটেছে। ফলে নতুন ট্রেডারদের একটি বা এমনকি দুইটি লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ মিলেছিল, যেগুলোর একটি শুক্রবারেই মুনাফার সাথে ক্লোজ করা গিয়েছিল। যদি ট্রেডাররা সোমবার পর্যন্ত পজিশনটি হোল্ড করে রাখেন, তাহলে সেটি টেক প্রফিট লেভেলে ক্লোজ হয়েছে, কারণ এই পেয়ারের মূল্য সম্পূর্ণভাবে 1.1830-1.1837 এরিয়ার লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে।

সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী কারেকশনের সমাপ্তি ঘটেছে, কারণ এই পেয়ারের মূল্য ডিসেন্ডিং চ্যানেলের উপরে স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করেছে। 2026 সালের শুরুতে একটি দীর্ঘমেয়াদি উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হয়েছে, তাই আমরা নতুন করে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক প্রেক্ষাপট এখনও বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে, ফলে আমরা সম্পূর্ণভাবে এই পেয়ারের মূল্যের আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রত্যাশা করছি।

সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1745-1.1754 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য। 1.1830-1.1837 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করলে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া যাবে, যেখানে মূল্যের 1.1899-1.1908 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104। আজ জার্মানিতে বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স প্রকাশিত হবে, এবং সেটিই সোমবারে প্রকাশিতব্য একমাত্র প্রতিবেদন। আমরা মনে করি গত সপ্তাহে এবং সামগ্রিকভাবে 2026 সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল এই পেয়ারের মূল্যের অনেক বেশি শক্তিশালী উর্ধ্বমুখী প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.