empty
 
 
25.02.2026 01:43 PM
EUR/USD পেয়ারের বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস

This image is no longer relevant

আজ EUR/USD পেয়ারের মূল্য পুনরায় সাইকোলজিক্যাল লেভেল 1.1800 ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার চেষ্টা করেছে, এবং সোমবারের দরপতন সামান্য পুনরুদ্ধার করেছে। দিনের বেলা মার্কেটে মূলত নতুন করে মার্কিন ডলার বিক্রির প্রবণতা শুরু হওয়ায় এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে চাপের মুখে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত শুল্ক স্থগিতের রায় দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, কার্যত তার বাণিজ্য কৌশল যে আগের মতোই রয়েছে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্টেট অব দ্য ইউনিয়নে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন যে ধারা 122-এর অধীনে হোয়াইট হাউস 150 দিনের জন্য 10% অস্থায়ী শুল্ক প্রবর্তন করেছে এবং মার্কিন প্রশাসন এই শুল্ক হার বাড়িয়ে 15% করার চেষ্টা করছে। এর ফলে অন্যান্য দেশগুলোর থেকে পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নতার ফলে নেতিবাচক অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব বিষয় মার্কিন ডলারের উপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর ফলে EUR/USD পেয়ারের মূল্য সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

This image is no longer relevant

একই সময়ে, ফেডের কঠোর অবস্থানের কারণে মার্কিন ডলারের মূল্যের যে বুলিশ প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছিল তা এখন স্তিমিত হয়ে পড়েছে। ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির জানুয়ারির বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা গেছে যে ফেডের কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন পুনরায় মুদ্রাস্ফীতির হ্রাসের স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করা উচিত হবে না। উপরন্তু, মঙ্গলবার বস্টন ফেডের প্রেসিডেন্ট সুসান কলিন্স উল্লেখ করেছেন যে "বেশ কিছুদিন পর্যন্ত" সুদের হার বর্তমান স্তরে ধরে রাখা উপযুক্ত হবে। অন্যদিকে রিচমন্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট টমাস বার্কিন জোর দিয়ে বলেছেন যে বর্তমান অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঝুঁকি পরিচালনার জন্য মুদ্রানীতির রূপরেখাটি বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডে বলেছেন যে ইউরোজোনে বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির হার ও মুদ্রানীতি গ্রহণযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। লাগার্ডে পূর্ববর্তী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন যে নিকট ভবিষ্যতে মুদ্রানীতির কোনো পরিবর্তনের আশা করা যাচ্ছে না, যা ইউরো ও EUR/USD পেয়ারকে বাড়তি সমর্থন দিচ্ছে। একই দিনে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কিত একটি ভোটের সময় পেছানো হবে। এটি ট্রেডারদের আগ্রাসীভাবে EUR/USD-এর বুলিশ পজিশন ওপেন করা থেকে বিরত রাখছে, ফলে এই পেয়ারের মূল্যের আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাও সীমিত হচ্ছে।

ট্রেডিংয়ের কার্যকর সুযোগের জন্য ইউরোজোনের চূড়ান্ত ভোক্তা মূল্য সূচকের ফলাফল দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। পরবর্তীতে, মার্কিন সেশনে ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যবেক্ষণ করা উচিত হবে।

তবুও, উপরোক্ত মিশ্র মৌলিক পটভূমিতে আক্রমণাত্মকভাবে পজিশন ওপেন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।

টেকনিক্যাল দিক থেকে, রিলেটিভ স্ট্রেন্থ ইনডেক্স নেগেটিভ জোনে রয়ে গেছে, যা বুলিশ প্রবণতা দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। যদি এই পেয়ারের মূল্য 50-দিনের SMA-এর ওপর অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরবর্তী সাপোর্ট লেভেল হিসেবে ফেব্রুয়ারির সর্বনিম্ন লেভেল প্রায় 1.1740 নির্ধারণ করা যায়। ওই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে 1.1700-এর সাইকোলজিক্যাল লেভেলের দিকে দরপতন ত্বরান্বিত হতে পারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1800 লেভেল অতিক্রম করে 20-দিনের SMA-তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তাহলে বুলিশ প্রবণতা আবার শুরু হতে পারে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য যে 200-দিনের SMA উপরের দিকে স্লোপ আছে, যা ইঙ্গিত করে এই পেয়ারের মূল্যের এখনও বুলিশ প্রবণতাই বিরাজ করছে।

নিচের টেবিলে আজ প্রধান বৈশ্বিক কারেন্সিগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের দরের শতকরা পরিবর্তন দেখানো হয়েছে, যেখানে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

This image is no longer relevant

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.