আরও দেখুন
মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক-অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে এগুলোর অধিকাংশই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে না, বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে। উদাহরণস্বরূপ, জার্মানির খুচরা বিক্রয়, বেকারত্ব হার এবং বেকারভাতা আবেদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। গত দেড় মাস ধরে মার্কেটের ট্রেডাররা যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফর্ম পে-রোল ও বেকারত্ব হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল উপেক্ষা করছে, তাই আমরা মনে করি জার্মান প্রতিবেদনের ফলাফল প্রভাবে মার্কেটে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। ইউরোজোনে মার্চের তুলনামূলক গুরুত্বপূর্ণ ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, উক্ত অঞ্চলের মুদ্রাস্ফীতির হার তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়ে 2.7% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। মুদ্রাস্ফীতির হার তীব্র ও শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি পেলে ইসিবির মুদ্রানীতি কঠোর করা হতে পারে। অতীতের সাধারণ সময়ে এটি ইউরোর পক্ষে খুবই অনুকূল হতো; তবে এখন ট্রেডাররা হয়তো এই প্রতিবেদনটিও উপেক্ষা করবে। যুক্তরাষ্ট্রে ফেব্রুয়ারির JOLTs প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে; তবু এই প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে তা মার্কিন ডলারের দরপতন প্ররোচিত করবে বলে মনে হয় না, কারণ মার্কিন ডলারের মূল্য বর্তমানে কেবল সামান্য কারেকশন করছে।
মঙ্গলবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ফেডের কয়েকজন কর্মকর্তাদের বক্তব্য লক্ষণীয়, তবে জেরোম পাওয়েল গতরাতে বলেছিলেন যে ফেড মুদ্রানীতির ব্যাপারে অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের অবস্থান গ্রহণ করেছে। অন্য কথায়, ফেড শিগগিরই সুদের হার হ্রাস বা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে না। ফেডের এই অবস্থান মুদ্রানীতির নমনীয়করণ স্থগিত রাখার মতোই, যা ইউরো ও পাউন্ডের বিপরীতে মার্কিন ডলারের জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অস্থিরতা বজায় না থাকলে এটাই মূল সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হত—বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ট্রেডার ও বিনিয়োগকারীদের মার্কিন ডলার ক্রয় করতে বাধ্য করছে। আমরা এখনও মনে করি যে ফান্ডামেন্টাল, টেকনিক্যাল এবং সামষ্টিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এই মুহূর্তে কারেন্সি মার্কেটে খুবই সীমিত প্রভাব ফেলছে।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে মার্কেটে যেকোনো ধরনের মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা যেকোনো সংবাদ যেকোনো সময় পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে এবং সাম্প্রতিককালে এসব সংবাদ বেশ পরস্পরবিরোধী ছিল। আজ ইউরো 1.1455-1.1474 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে, এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3203-1.3212 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে। আমরা এখনও মার্কিন ডলারের শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী বৃদ্ধির জন্য (সব বিষয় বিবেচনা করে, শুধুমাত্র ভূ-রাজনীতি নয়) কোনো ভিত্তি দেখতে পাচ্ছি না; তবুও ট্রেডাররা পুরোপুরিভাবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর মনোনিবেশ করায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলার কেবল সমর্থন পেয়েই চলেছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।