empty
 
 
11.05.2026 07:10 AM
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখনও স্বর্ণের পিছু ছাড়ছে না!

This image is no longer relevant

যদিও স্বর্ণের মূল্য সাময়িকভাবে স্থবির রয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ট্রেডারদের একটি স্পষ্ট সংকেত দিয়ে যাচ্ছে: তারা ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ ক্রয় করছে এবং দরপতনের সময়গুলো তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে—এমনকি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে যে মার্চে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে স্বর্ণ বিক্রি করেছে, যেখানে তুরস্ক ও রাশিয়া সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ বিক্রয় করেছে, ফলে স্বর্ণের রিজার্ভ 30 টন পর্যন্ত কমেছে।

তবু স্বর্ণের মৌলিক প্রেক্ষাপট ইতিবাচকই রয়েছে, কারণ দরপতনের ফলে অনেকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়িয়েছে। সবচেয়ে সক্রিয় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে পোল্যান্ড, উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তান, এবং চীন দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণ ক্রয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। কোনো এক মাসে স্বল্পমেয়াদে বিক্রয়ের প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং গত কয়েক বছরে গঠিত স্থায়ী প্রবণতাই মূল বিষয়।

স্বর্ণ ক্রয়ের প্রবণতা ক্রমেই কৌশলগত নীতির অংশ হয়ে উঠছে—যা রিজার্ভের বৈচিত্র্যকরণ, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করার প্রবণতার কারণে ঘটেছে। এই প্রবণতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চীন: পিপলস ব্যাংক অব চায় না ধারাবাহিকভাবে ১৮ মাস ধরে স্বর্ণের রিজার্ভ বাড়িয়ে চলেছে। দেশটি স্বর্ণের মূল্যের স্বল্পমেয়াদী ওঠানামার ওপর কেন্দ্র করে নয়, বরং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী স্বর্ণের দরপতনের সময় এটি ক্রয়ের ব্যাপারে সক্রিয় হয়।

মার্চে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক 8 টন স্বর্ণ ক্রয় করে—যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে মাসিক ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ক্রয়— সেসময় স্বর্ণের মূল্য ২০২৬ সালের জানুয়ারির সর্বোচ্চ স্তরের তুলনায় প্রায় ১৬% কম ছিল। চীন থেকে স্বর্ণের চাহিদা বজায় থাকা সত্ত্বেও সরকারি রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ এখনও অপেক্ষাকৃত বেশ কম—ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী এটি মোট বৈশ্বিক রিজার্ভ অ্যাসেটের প্রায় 15%—যা ভবিষ্যতে পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

উচ্চ মূল্য বজায় থাকা সত্ত্বেও নতুন বিনিয়োগকারী দেশ স্বর্ণের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। কসোভো প্রথমবারের মতো তাদের রিজার্ভে স্বর্ণ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে ছোটো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগ করে স্থিতিশীলতা বাড়াতে চাইছে। ক্রেতার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করে যে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় স্বর্ণের গুরুত্ব কমছে না—বরং ধীরে ধীরে বাড়ছে।

বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আচরণগত ধারা বদলাচ্ছে: তাদের চাহিদা এখন আগের সময়ের তুলনায় স্বর্ণের মূল্যের প্রতি কম সংবেদনশীল হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন এটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উদ্দেশ্যের দিকে মনোযোগের সরে যাওয়ার সংকেত। ফলে স্বর্ণের মূল্যের একটি তথাকথিত "স্ট্রাকচারাল বটম" গড়ে উঠছে।

This image is no longer relevant

স্পেকুলেটিভ ট্রেডিং কার্যক্রম ও স্বর্ণভিত্তিক ইটিএফগুলোতে বিনিয়োগ প্রবাহ স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের মূল্যের অস্থিরতা বাড়াতে পারে, তবে মার্কেটে কারেকশনের সময় স্বর্ণের সরকারি চাহিদা ইতিবাচক কারণ হিসেবে কাজ করে। তা সত্ত্বেও স্বর্ণের ব্যাপক দরপতনের সম্ভাবনাও পুরোপুরিভাবে অস্বীকার করা যায় না।

তবু যতদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণকে তাদের রিজার্ভ কৌশলের প্রধান উপাদান হিসেবে দেখবে, ততদিন বড় ধরনের দরপতন সাধারণত পুনরায় ক্রয়ের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার হবে বলে ধারণা করা যায়। বর্তমান মার্কেটে কনসলিডেশন হচ্ছে এবং ট্রেডাররা নতুন সামষ্টিক সূচকের অপেক্ষায় রয়েছে। ততক্ষণ ব্যাংকগুলো নীরবে স্বর্ণ ক্রয় করে যাচ্ছেন—এবং এই বিষয়টি ২০২৬ সালের শেষদিকে স্বর্ণের মূল্যের ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.