আরও দেখুন
স্বর্ণের ক্রমাগত দরপতন হচ্ছে, যা ০.৫% কমে আউন্স প্রতি প্রায় $4,308-এ পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে, স্বর্ণের মূল্য প্রায় ৫% কমে যায়, যার ফলে বছরের শুরু থেকে এটির মূল্য যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছিল তা মিলিয়ে যায়। ফেব্রুয়ারির শেষে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দর ১৮%-এর বেশি কমেছে এবং এই দরপতনের চূড়ান্ত মাত্রা এখনও নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের উপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তাহান্তে, প্রতিহত করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের জবাবে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী পশ্চিম ও মধ্য ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। নেতানিয়াহুকে উত্তেজনা বৃদ্ধি করার থেকে বিরত থাকার জন্য ট্রাম্পের সরাসরি আহ্বান সত্ত্বেও এটি ঘটেছে — মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে এই সংঘাতের ওপর তার প্রভাব হারাচ্ছেন, তা স্পষ্ট। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন সামরিক উপদেষ্টা ইসরায়েলের ওপর রবিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে লেবাননে হামলা বন্ধ করার একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটা স্পষ্ট যে লেবাননের বিষয়টি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি বৃহত্তর চুক্তির পথে আবারও একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে।
স্বর্ণের ক্ষেত্রে, বিষয়টি সরাসরি ভূ-রাজনীতি নয় — বরং সুদের হার কীভাবে প্রভাবিত হয়, সেটাই মূল বিষয়। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য বিরাজ করছে, জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য বজায় থাকায় মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মুদ্রানীতি কঠোর করতে বাধ্য হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রক্রিয়াটিই স্বর্ণের উপর মূল চাপ সৃষ্টি করেছে। শুক্রবারের মার্কিন কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল এই চাপকে আরও তীব্র করেছে: ৮৫,০০০-এর পূর্বাভাসের বিপরীতে ১,৭২,০০০ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করেছে। ট্রেডাররা ইতোমধ্যেই বছরের শেষ নাগাদ ফেড কর্তৃক ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়টি পুরোপুরিভাবে মূল্যায়ন করে ফেলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, পিপলস ব্যাংক অফ চায়নার কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্য। মে মাসে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার স্বর্ণের রিজার্ভ প্রায় ১০ টন বাড়িয়েছে — যা ২০২৪ সালের পর থেকে মাসিক ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পরিমাণ, এবং এর মাধ্যমে টানা ১৯ মাস ধরে এই ক্রয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এটি একটি কাঠামোগত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়, যা সুদের হার এবং মুদ্রাস্ফীতির প্রচলিত যুক্তিকে উল্টে দিতে সক্ষম না হলেও, মুদ্রানীতিতে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্যের পুনরুদ্ধারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হয়ে উঠতে পারে।
গত সপ্তাহে প্রায় ১০% দরপতনের পর রুপার মূল্য ০.৪% কমে $67.53-এ দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের মূল্যও কমছে, অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের মূল্যে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $4,372-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে স্বর্ণের মূল্যের $4,432-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া যথেষ্ট কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,481 এরিয়া নির্ধারণ করা যায়। স্বর্ণের দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $4,304-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেবার চেষ্টা করবে। যদি তাঁরা সফল হয় এবং এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হয়, তবে তা বুলিশ পজিশনের উপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,249 পর্যন্ত নেমে আসতে পারে, পরবর্তীতে $4,186 পর্যন্ত দরপতনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।