আরও দেখুন
মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা থাকলেও, সেগুলোর মধ্যে অল্প কয়েকটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শুরুতেই জার্মানিতে খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। ইউরোজোনে আগস্ট মাসের মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ISM ম্যানুফ্যাকচারিং ইনডেক্স এবং তুলনামূলকভাবে স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন JOLTS শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। মনে রাখবেন, এই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে 'নন-ফার্ম পেরোল' এবং বেকারত্বের হার বিষয়ক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে; তাই শ্রমবাজার সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ট্রেডাররা সেগুলোর অপেক্ষায় থাকবে। সুতরাং, আজ আমাদের ইউরোপীয় মুদ্রাস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর বিশেষ নজর রাখতে হবে।
মঙ্গলবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভ প্রতিনিধি মাইকেল বারের বক্তব্য উল্লেখযোগ্য; তবে শুক্রবার ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যে মৌলিকভাবে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আবারও উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং তা মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে এসেছে। কিন্তু এর অর্থ কি এই যে, সেপ্টেম্বরে ফেড মূল সুদের হার বাড়াবে? আমাদের মতে—না। যদিও মার্কেটে ধরে নেওয়া হচ্ছে যে সুদের হার বাড়ানো হবে। এই বিষয় এবং টেকনিক্যাল বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে মার্কিন ডলারের মূল্যের ভবিষ্যৎ মুভমেন্ট মূলত ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও তেমন সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইরানকে অকার্যকর করার ব্যাপারে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে কেউ সমর্থন করেনি এবং এটি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তাও অনিশ্চিত। যা নিশ্চিত তা হলো, যুক্তরাষ্ট্র গত এক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। অর্থাৎ, স্পষ্টতই এই সংঘাত প্রশমিত হয়নি এবং এর কোনো সুরাহা হয়নি।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারের আবারও কিছুটা মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1584-1.1594 রেঞ্জের মধ্যে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3456-1.3476 ও 1.3587-1.3598 এরিয়ার মধ্যে ট্রেডিং করা যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে, আমরা আগামী দিনগুলোতেও দরপতন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছি, কারণ উভয় কারেন্সি পেয়ারের টেকনিক্যাল চার্ট অনুযায়ী এখন 'বিয়ারিশ' প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।