empty
 
 
28.09.2026 09:25 AM
USD/JPY: নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ টিপস, ২৮ সেপ্টেম্বর। গতকালের ফরেক্স ট্রেডের বিশ্লেষণ

জাপানি ইয়েন ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ ও টিপস

যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচের দিকে নামতে শুরু করেছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 157.91-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা মার্কিন ডলারের সেল পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে। ফলস্বরূপ, এই পেয়ারের মূল্য 157.57-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে নেমে আসে।

গত শুক্রবার দিনের শেষার্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ফলাফল মার্কিন ডলারের ওপর আস্থা কিছুটা ফিরিয়ে আনে। সেপ্টেম্বরে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স বেড়ে 48.1-এ পৌঁছায়, যা আগস্টে 47.8 ছিল। এই সূচকটি মার্কিন পরিবারগুলোর আয় ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে। যেহেতু দেশটির জিডিপির একটি বড় অংশই আসে ভোক্তা ব্যয় থেকে, তাই এই সূচকের সামান্য বৃদ্ধিকেও মার্কেটে স্থিতিশীল চাহিদার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের ফলাফল সাধারণত ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালার উল্লেখযোগ্য নমনীয়করণের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় এবং মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করে। এর ফলে USD/JPY পেয়ারের এক্সচেঞ্জ রেটে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা গেলেও তা ক্ষণস্থায়ী ছিল; শীঘ্রই আবার দরপতনের চাপ ফিরে আসে।

এই কারেন্সি পেয়ারের ক্ষেত্রে এখন মার্কিন সামষ্টিক প্রতিবেদনের চেয়ে জাপানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহের শেষদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের পর ট্রেডাররা এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে শুরু করেছে যে, টোকিও ইয়েনের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। ট্রাম্প জাপানের এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানানোয় সেই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে। আমার মতে, ট্রেডাররা এটিকে এমন একটি সংকেত হিসেবে দেখছে যে জাপানের ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই এবং ইয়েনের দরপতন রোধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে ওয়াশিংটন তাতে আপত্তি জানাবে না। এর ফলে, ট্রেডাররা পুনরায় সক্রিয়ভাবে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েন কেনা শুরু করেছেন এবং এসব খবরের ভিড়ে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত সূচকের শক্তিশালী ফলাফল ইয়েনের বিপরীতে ডলার কেনার খুব একটা জোরালো কারণ হিসেবে গণ্য হয়নি।

ট্রেডাররা কেন কারেন্সি মার্কেটে সরকারি হস্তক্ষেপকে ভয় পায়, তা মনে রাখা দরকার। কর্তৃপক্ষ যখন দেখে যে জাতীয় মুদ্রা খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে, তখন তারা মার্কেটে এন্ট্রি করে মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ইয়েন বিক্রি করতে পারে, যা মিনিটের মধ্যেই এক্সচেঞ্জ রেটকে তীব্রভাবে ইয়েনের অনুকূলে পরিবর্তন করে দিতে পারে। যারা আরও লাভের আশায় USD/JPY কিনে থাকেন, তারা এই ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত লোকসানের সম্মুখীন হন, যে কারণে হস্তক্ষেপের আলোচনা আবার শিরোনামে এলে অনেকেই তাদের পজিশন সমন্বয় করার পথ বেছে নেন। যতক্ষণ ট্রেডারদের উপর এই হুমকি বযায় থাকে, ততক্ষণ মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ এই পেয়ারের বিয়ার বা সেলারদের হাতেই থাকে — অর্থাৎ যারা দরপতনের সম্ভাবনার উপর আস্থা রেখে ইয়েন কেনে।

ট্রেডাররা যতক্ষণ না মনে করবে যে কারেন্সি মার্কেটে সরকারি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা কেটে গেছে, ততক্ষণ এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে আমার ধারণা। জাপানি কর্তৃপক্ষ যদি তাদের কঠোর অবস্থান কিছুটা নমনীয় করে অথবা বাস্তবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয় যা থেকে বোঝা যায় যে তারা কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপ চালাতে আগ্রহী নয়, তবেই এমনটা ঘটতে পারে। ট্রেডাররা যখন বুঝতে পারবেন যে ইয়েনের ওপর থাকা সেই সুরক্ষাবলয় আর নেই, তখন মার্কিন ডলারের ক্রেতারা আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবেন; পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের শক্তিশালী ফলাফল এবং ডলারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রভাব আবারও পুরোদমে দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। তখন USD/JPY পেয়ারের এক্সচেঞ্জ রেট সম্ভবত 160-এর এরিয়ার দিকে আবার বাড়তে শুরু করবে—যে লেভেলটিকে ট্রেডাররা একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং মনে করেন যে এটি স্পর্শ করলে টোকিও থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাই, এই সময়ের মধ্যে আমি সতর্কতার সাথে এই কারেন্সি পেয়ারের ট্রেডিং করার পরামর্শ দিচ্ছি এবং প্রায়শই পুলব্যাকের আশা করছি।

দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।

This image is no longer relevant

বাই সিগন্যাল

পরিকল্পনা 1: আজ এই পেয়ারের মূল্য 158.19-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 157.85-এর (চার্টে সবুজ লাইন) এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি USD/JPY পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এই পেয়ারের মূল্য প্রায় 158.19-এর লেভেলে পৌঁছালে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করব এবং বিপরীত দিকে শর্ট পজিশন ওপেন করব (এই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপস মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি)। USD/JPY পেয়ারের কারেকশন এবং উল্লেখযোগ্য পুলব্যাকের সময় এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করা উচিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে সবেমাত্র উপরে উঠতে শুরু করেছে।

পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 157.60-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি USD/JPY পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী দিকে নিয়ে যাবে। আমরা 157.85 এবং 158.19-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।

সেল সিগন্যাল

পরিকল্পনা 1: আজ এই পেয়ারের মূল্য শুধুমাত্র 157.60-এর (চার্টে হালকা লাল লাইন) লেভেল অতিক্রম করে নিম্নমুখী হওয়ার পর USD/JPY পেয়ারের শর্ট পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি, যা এই পেয়ারের দ্রুত দরপতনের দিকে নিয়ে যাবে। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 157.23-এর লেভেল (গাঢ় লাল লাইন), যেখানে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং অবিলম্বে বিপরীত দিকে লং পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি, সেই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপস রিবাউন্ডের আশা করছি। আজ যেকোনো সময় এই পেয়ারের সেলাররা সক্রিয় হতে পারে, তাঁদের শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যেকোনো ইঙ্গিত দরকার। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ারের শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং সবেমাত্র জিরো লাইনের নিচে নামতে শুরু করেছে।

পরিকল্পনা 2: আজ MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময় মূল্য পরপর দুইবার 157.85-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি USD/JPY পেয়ারের শর্ট পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 157.60 এবং 157.23-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।

This image is no longer relevant

চার্টে কী আছে:

  • হালকা সবুজ লাইন – এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট ক্রয় করা যেতে পারে।
  • গাঢ় সবুজ লাইন – টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্দেশ করে, কারণ এই লেভেলের উপরে আরও দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।
  • হালকা লাল লাইন – এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট বিক্রয় করা যেতে পারে।
  • গাঢ় লাল লাইন – টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে, কারণ এই লেভেলের নিচে আরও দরপতনের সম্ভাবনা নেই।
  • মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার সময় ওভারবট এবং ওভারসোল্ড জোন মূল্যায়নের জন্য MACD সূচক ব্যবহার করা উচিত।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

  • নতুন ফরেক্স ট্রেডারদের মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মূল্যের তীব্র ওঠানামা এড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মার্কেটে এন্ট্রি না করাই উত্তম। যদি আপনি সংবাদ প্রকাশের সময় ট্রেডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে লোকসানের সম্ভাবনা হ্রাসের জন্য অবশ্যই স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করুন। স্টপ-লস অর্ডার ছাড়া ট্রেডিং করলে দ্রুত আপনার সম্পূর্ণ ডিপোজিট শেষ হয়ে যেতে পারে, বিশেষত যদি আপনি অর্থ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা উপেক্ষা করেন এবং বেশি ভলিউমে ট্রেড করেন।
  • মনে রাখবেন, সফল ট্রেডিংয়ের জন্য একটি সুসংগঠিত ট্রেডিং পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক, ঠিক যেমনটি উপরে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সেটি দৈনিক ভিত্তিতে ট্রেড করা ট্রেডারদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.