আরও দেখুন
সোমবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল, যা বেশ শক্তিশালী একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর স্বাভাবিকভাবেই টেকনিক্যাল কারেকশন হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। সোমবার পাউন্ডের দরপতনের পেছনে কোনো মৌলিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক কারণ ছিল না। যদিও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ট্রেডার নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকছেন, তবে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি গত প্রায় পাঁচ বছর ধরেই উচ্চপর্যায়ে রয়েছে—সুতরাং কেবল এর মাধ্যমেই মার্কিন ডলারের প্রতিটি মুভমেন্টকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে, ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রকে স্থিতিশীল অর্থনীতি বা অনুমানযোগ্য নীতিমালার আদর্শ উদাহরণ বলা যায় না; বরং পরিস্থিতি তার ঠিক বিপরীত। ট্রেডাররা ক্রমাগত এমন অনেক বিষয়কে উপেক্ষা করে যাচ্ছে, যা পাউন্ডের পক্ষে কাজ করে।
আমরা এখনও পাউন্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছি, অন্তত টেকনিক্যাল দিক থেকে। এই বিষয়টি মনে রাখা প্রয়োজন যে, দৈনিক এবং সাপ্তাহিক চার্টে এখনও সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট বজায় রয়েছে: দুই সপ্তাহ আগে এই পেয়ারের মূল্য এই চ্যানেলগুলোর লোয়ার বাউন্ডারি টেস্ট করেছিল এবং একটি ডেভিয়েশন হয়েছিল; এখন এই পেয়ারের মূল্য উক্ত চ্যানেলগুলোর আপার বাউন্ডারির দিকে অগ্রসর হতে পারে।
সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। এশিয়ান সেশনের সময়, এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, যা শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি করে। মার্কিন সেশনের শুরুর দিকে, এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 এরিয়ায় অবস্থান ধরে রাখে এবং সেখান থেকে বাউন্স করে; ফলে শর্ট পজিশনগুলো বেশ ভালোই মুনাফার সাথে ক্লোজ করা যেত এবং লং পজিশন ওপেন করা যেত।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে এবং এখন ইউরোর মূল্যের তুলনায় পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হওয়ার দৃঢ় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ চার্টের টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন ডলারের ওভারবট কন্ডিশন—সবকিছুই GBP/USD-এর মূল্যবৃদ্ধির অনুকূলে রয়েছে।
মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 এরিয়া ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3259–1.3267-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3319–1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380–1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ডিউরেবল গুডস অর্ডার এবং আরও কিছু ছোটখাটো প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে; মার্কেটে হয়তো এগুলোর প্রভাবে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে, তবে ট্রেডাররা মূলত বড় কোনো ইভেন্টের অপেক্ষায় রয়েছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।