আরও দেখুন
আজ WTI গ্রেডের তেলের দর 6%-এরও বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি $92.22-এ পৌঁছেছে এবং ব্রেন্ট গ্রেডের তেলের দর দর 4.6% বেড়ে $94.65-এ দাঁড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, এই হামলাগুলো মূলত হরমুজ প্রণালীতে ইরানের মাইন পাতার প্রচেষ্টা এবং জর্ডানে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে তেহরানের পূর্ববর্তী হামলার জবাব ছিল। সোমবার গভীর রাতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়; সেসময় হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টারত দুটি বিশাল তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার ক্ষেপনাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টা হামলার জন্য 'কঠোর শাস্তির' হুমকি দিয়েছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর। একই সাথে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের যেকোনো পাল্টা পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী সামরিক অভিযানের সূত্রপাত ঘটাতে পারে এবং এর ফলে দেশটি "পৃথিবীর মানচিত্র থেকে পুরোপুরিভাবে মুছে যেতে পারে"।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের গ্যাস মার্কেট সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে এবং পরিস্থিতি এখন সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। শীতের আগে গ্যাসের মজুদ পুনরায় পূর্ণ করার জন্য এই অঞ্চলের হাতে সময় আছে মাত্র এক মাস; বর্তমানে মজুদাগারগুলো প্রায় ৬৫ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে, যা ২০০৯ সালে পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে এই মৌসুমে রেকর্ড করা সর্বনিম্ন মাত্রা। ইউরোপীয় গ্যাসের বেঞ্চমার্ক বর্তমানে জুলাই মাসের শুরুর তুলনায় ৭০ শতাংশেরও বেশি উপরে অবস্থান করছে। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইসাবেল শ্নাবেল গ্যাসকে বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, স্বল্প মজুদের কারণে তীব্র শীতের সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, পরিস্থিতির তীব্রতা সত্ত্বেও তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা বেশ সীমিত রয়েছে এবং এর পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট কারণও রয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে—অনেক সময় শনাক্তকরণ এড়াতে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে এই সরবরাহ অব্যাহত রাখা হচ্ছে—এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদনকারীরা অবিরাম তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে।
এই প্রণালীকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের অবস্থান ক্রমশ উসকানিমূলক হয়ে উঠছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট হরমুজের গুরুত্বকে খাটো করে দেখেছেন; তিনি বলেছেন যে, শীঘ্রই পাইপলাইনের মাধ্যমে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে এবং তখন এই প্রণালী কেবল "সমুদ্রের একটি অকেজো অংশে" পরিণত হবে। এমন বক্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং দেশটির অভ্যন্তরে ক্রমশ অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা পুরো অভিযানের দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $92.50-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $96.54-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $100.40 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $89.54-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $87.08 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $84.40 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।