empty
 
 
29.10.2026 10:20 AM
তেহরানের উদ্দেশ্যে ভ্যান্সের চিঠি জ্বালানি তেলের দরপতনে অবদান রেখেছে

গতকাল জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লেও আজ দরপতন ঘটেছে। ডিসেম্বরে ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য প্রায় 1.3% কমে প্রতি ব্যারেল $113.85-এ নেমে এসেছে এবং ডব্লিউটিআই-এর মূল্য 1.5% কমে $101.20-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। গতকাল ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য প্রায় $116-এ পৌঁছেছিল, অর্থাৎ গতকাল অর্জিত প্রবৃদ্ধির কিছুটা অংশ দরপতনের শিকার হয়েছে।

This image is no longer relevant

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় হামলা রোধ করার লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়, যা এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটায়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সিনেটর জে. ডি. ভ্যান্স ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন যে, তেহরান এখনও কূটনীতির পথ খোলা রেখেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ভ্যান্স ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখেছিলেন, তবে তিনি জানান, সেই বার্তায় চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প আরও বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চলছে, তবে তা সফল হবে কি না, তা তিনি জানেন না।

এই সংকেতটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগের ইঙ্গিতবাহী শিরোনামগুলো বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার (প্রফিট-টেকিং) দিকে ধাবিত করতে পারে এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে—গতকাল ঠিক সেটাই ঘটেছে; কারণ মার্কেটে তখন ইরানে সামরিক হামলার প্রত্যাশা বিরাজ করছিল, তাই সুর কিছুটা নমনীয় হওয়া মাত্রই তা জ্বালানি তেল বিক্রির একটি কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরিভাবে শান্ত হয়নি। সংঘাত অব্যাহত থাকার মধ্যেই ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য এই মাসে প্রায় 10% বেড়েছে এবং এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে। ফেডারেল রিজার্ভ গতকাল সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে, তবে ট্রেডাররা ধারণা করছেন যে নীতিনির্ধারকরা ডিসেম্বরে আবারও মুদ্রানীতি কঠোর করবেন।

৩রা নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কেটে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় কোনো পদক্ষেপ আশা করা যায় না। ইসরায়েলের নির্বাচনের পরিস্থিতিও অস্পষ্ট: তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন, তবে তিনি বা গাদি আইজেনকোট—কারোরই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন যে, সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে।

ভৌত চাহিদা থেকে প্রাপ্ত সংকেতগুলো বেশ মিশ্র। জাহাজ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি অবকাঠামো ও ট্যাঙ্কারের ওপর হামলার ঘটনা সত্ত্বেও সৌদি আরবের রপ্তানি যুদ্ধকালীন সময়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছিই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের মজুদ 1.9 মিলিয়ন ব্যারেল কমে জুলাই মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে; অন্যদিকে, রপ্তানি মে মাসের পর সর্বোচ্চ গতিতে চলছে। উল্লেখ্য, মজুদ হ্রাসের এই পরিমাণটি ট্রেডারদের প্রত্যাশিত 300k ব্যারেলের চেয়ে অনেক বেশি—এর আগের সপ্তাহে মজুদ হ্রাসের পরিমাণ ছিল প্রায় 3.06 মিলিয়ন ব্যারেল।

আমার মনে হয়, কূটনৈতিক আলোচনার এই সুযোগটি জ্বালানি তেলের খাতে কেবল সাময়িক স্বস্তি বয়ে এনেছে। ৩রা নভেম্বরের পর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা ওয়াশিংটন পুরোপুরি নাকচ না করা পর্যন্ত এবং মার্কিন মজুত ভাণ্ডার কমতে থাকলে, ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য $110-এর নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা কম। বরং নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের মূল্য $110–$118-এর পরিসরে ওঠানামা করতে পারে; আর আলোচনা থমকে গেলে আরও মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যেতে পারে। কোনো চুক্তির দিকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হলেই কেবল জ্বালানি তেলের বড় ধরনের পতন ঘটতে পারে—কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি তেমন কোনো পদক্ষেপের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না।

This image is no longer relevant

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $102-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $105-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $109 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $98-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $95 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $92 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.